Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৭
চার বস্তি-স্টেশনে মাদক বাণিজ্য
পূর্বাঞ্চল রেলের সদর-অন্দর শেষ
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
চার বস্তি-স্টেশনে মাদক বাণিজ্য

চট্টগ্রামে চার বস্তি ও রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশ পরিণত হয়েছে ‘মাদক সাম্রাজ্যে’। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করছে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী চক্র।

রেলের জায়গা দখল করে বস্তিগুলোকে বানানো হয়েছে মাদক বিকিকিনির হাট। বস্তিতে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ, হেরোইনসহ এমন কোনো মাদক নেই যা পাওয়া যায় না। জায়গাগুলোয় দৈনিক কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহাল তবিয়তে মাদক সাম্রাজ্য থাকার পেছনে কাজ করছে মাসোহারা। যা পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, ডিবি, থানা পুলিশ, রেলপুলিশ, রেল কর্মকর্তা, স্থানীয় মস্তান ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতা। মাদক বস্তিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো জামতলা বস্তি, সলিমপুর ছিন্নমূল বস্তি, আইস ফ্যাক্টরি রোডস্থ বাস্তুহারা কলোনি, স্টেশন কলোনি ও বরিশাল কলোনি।

আইস ফ্যাক্টরি বাস্তুহারা ও স্টেশন কলোনি : বাস্তুহারা কলোনিটি মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, মদসহ সব ধরনের মাদকই মেলে এখানে। পাশাপাশি স্টেশন কলোনিতেও রয়েছে মাদকের আস্তানা। রেল স্টেশনের আশপাশেই বসে মাদকের বাজার। রেলের  জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাস্তুহারা ও স্টেশন কলোনি। এ দুটি কলোনিতে অসংখ্য বস্তিঘর রয়েছে। অধিকাংশ বস্তিতেই মাদক বিকিকিনি চলে। রাত হলেই বসে মাদকের হাট। এখানে একাধিক গ্রুপ এ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। এসব গ্রুপের অধীন রয়েছে আরও ১৫-২০টি উপগ্রুপ। প্রতিটি উপগ্রুপে রয়েছে ১০-১৫ জন করে লোক।

রেলওয়ে স্টেশন : পুরাতন রেল স্টেশনের আশপাশে প্রতিদিনই মাদকের হাট বসে। চলে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এখান থেকে বিভিন্ন স্পটে মাদক সরবরাহ করা হয়। এ স্টেশনে মাদকের মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, গাঁজা, মারিজুয়ানা, হেরোইন, ইয়াবা ইত্যাদি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনযোগে মাদক নিয়ে আসা হয়। ট্রেনচালক, জিআরপি, রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্যদের সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেটের সমঝোতা রয়েছে। বরিশাল কলোনি : একসময় নগরীতে মাদক ব্যবসা মানেই ছিল বরিশাল কলোনি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ কলোনি উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু পরে বেশ কিছু বস্তিঘর গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে আবারও শুরু হয় মাদক ব্যবসা। কলোনিতে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা চলে। রেল স্টেশন, বাস্তুহারা, স্টেশন কলোনি ও বরিশাল কলোনিতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে কথিত কামাল সিন্ডিকেট। এর সঙ্গে যুক্ত হিসেবে মোসলেম, রুমি, মোকতার, লেঙ্গা লোকমান, নাছির, এনাম, নাজির, ইকবাল, আফজলু, আবছার, রুহুল, আজিজ, ফারুক, মোরশেদের নাম রয়েছে পুলিশের খাতায়।

আরও নাম রয়েছে আরিফ, নকল ডিবি রাজু, সাকিবসহ অন্তত ৩০ জনের। আরেক কথিত মাদক সম্রাট মনির হোসেনকে বছরখানেক আগে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

জামতলা বস্তি : রেলের কয়েকশ একর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এ বস্তি। এ বস্তিটি নগরবাসীর কাছে এক নামেই পরিচিত। দিনে ১০ লাখ টাকার মাদক বিকিকিনি হয় এখানে। পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রি হয়। ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জনৈক ফয়সাল। বিআরটিসি মার্কেট রাস্তার পাশ থেকে উত্তর দিকে রেলওয়ে হাসপাতালের কাছে পর্যন্ত এ বস্তি বিস্তৃত। রেলের জায়গা দখল করেই গড়ে উঠেছে এ বস্তি। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৬ শতাধিক ঘর। কাঁচা, আধাপাকা, কাঁচাপাকা এসব ঘর। রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালীরা এসব ঘর ভাড়া দিয়েছেন; যার অধিকাংশেই চলে মাদক বিকিকিনি।

সলিমপুর ছিন্নমূল বস্তি : জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বস্তি। সরকারি প্রায় আড়াই হাজার একর জায়গা দখলে নিয়ে ২০ সহস্রাধিক ঘর তোলা হয়েছে। এখানে কোটি কোটি টাকার মাদক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছেন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আইনজীবী, কথিত সাংবাদিকসহ প্রভাবশালীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow