Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৪
দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
চোরাই পথে দেশে ঢুকছে মসলা
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম
দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

চোরাই পথে অবাধে মসলা আসার কারণে সরকার বছরে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর এই কোরবানির ঈদ ঘিরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এতে দেশের প্রকৃত মসলা আমদানিকারক ও বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন বলে জানানো হয়। মসলার চোরাচালান ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দফতরের হস্তক্ষেপ চেয়েও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বণিক নেতারা। ভারত ও মিয়ানমারের প্রায় সবকটি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই মসলা দেশে ঢোকার পর তা বিশেষ চক্রের মাধ্যমে সারা দেশে বিপণন হচ্ছে বলে জানান খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর অবৈধভাবে দুই হাজার টন এলাচি প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে। একইভাবে প্রায় ছয় হাজার টন জিরা অন্তত ৮৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশে ঢোকে। এ ছাড়া লবঙ্গ, গোল মরিচসহ অন্যান্য দামি মসলার চালানও অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢোকায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাগলনাইয়া সীমান্ত দিয়ে ফেনীর বিভিন্ন বাজারে এবং চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লার চকবাজারসহ ঢাকার পাইকারি বাজারে যাচ্ছে এসব মসলা। বগুড়া ও খুলনা সীমান্ত দিয়ে পাবনা, সৈয়দপুর, রংপুর, রাজশাহী এলাকায় বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপণন হচ্ছে চোরাই মসলা। এ ছাড়া টেকনাফ ও গুনধুম সীমান্ত দিয়েও বিভিন্ন মসলাজাত পণ্য দেশের বাজারে অবৈধভাবে ঢোকছে বলে জানা যায়। এই অবৈধ চোরাচালানের ফলে বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক মোহাম্মদ নুরুল আবছার।

জানা যায়, মসলা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক দিতে হয় ৬২ শতাংশ। কিন্তু পাশের দেশ ভারতে এই হার মাত্র ২০ থেকে ২৬ শতাংশ। এই সুবাদে ভারতের ব্যবসায়ীরা এলাচি, লবঙ্গ, গোল মরিচের মতো দামি মসলা চীন ও নেপাল থেকে আমদানি করে বাংলাদেশে বৈধ-অবৈধ পথে রপ্তানি করছে। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামীমুর রহমান বলেন, মসলার চোরাচালানের অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow