Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:১০
বাজারে ‘ঈদের আগুন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে ‘ঈদের আগুন’
বাজার দর

নিত্যপণ্যের বাজারে যেন ঈদের আগুন জ্বলছে। ঈদকে উপলক্ষ করে ব্যবসায়ীরা সব কিছুর দাম চড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে ঈদুল আজহার তিন দিন বাকি থাকতেই রাজধানীর বাজারে বিরাজ করছে দামের উত্তাপ।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ভারতীয় হলুদের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। খুচরা বাজারে ভারতীয় এ হলুদ কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি ভারতীয় এলাচ (মান ভেদে) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা  থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ভারতীয় জিরার দাম বাজার ভেদে বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা কেজি। ইরানি জিরা ৫০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকা ও টার্কিশ জিরা ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকা।

এ ছাড়া সরিষা ৬৫ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ টাকায়, পাঁচফোড়ন ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, জায়ফল  খোসা ও বীচি ছাড়া এক হাজার টাকায়, খোসা ও বীচিসহ ৮০০ টাকায়, দারুচিনি ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, গোলমরিচ (কালো) ৮৫০ টাকায় ও গোলমরিচ (সাদা) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪৮০ টাকায়। তবে তেজপাতার দাম ১৪০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এ বাজারের মসলা ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন  জানান, মসলার পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে খুচরা বাজারে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। এ বাজারে মসলা কিনতে আসা জালাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, সারা বছর মসলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই বেড়ে যায়। কারণ কোরবানির মাংসের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো মসলা।

মুদিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ আদা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। রসুনের (দেশি) দাম কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা এবং মানভেদে দেশি পিয়াজ ৩৮ ও ভারতীয় পিয়াজ ২৪ টাকা। ভোজ্যতেলের দাম রয়েছে আগের মতোই।

এ ছাড়া কাঁচাবাজারে কেজিপ্রতি বরবটি ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টমেটো ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা,   দেশি শসা ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা ও হাইব্রিড ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, আলু ২ টাকা বেড়ে ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি করল্লা ও ঝিঙা    বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় (প্রতি পিস), ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় (প্রতি পিস), চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায়, শিম ৮০ টাকায়, পেঁপে ২৫ টাকায়, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৪০ টাকায়, কচুর লতি ৫০ টাকায়, কচুরমুখী ৪০ টাকায়, ধুন্দুল ৪০ টাকায়, গাজর ৫০ টাকায় ও পটল ৩৫ টাকায় এবং প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এ বাজারের সবজি বিক্রেতা জাকির বলেন, পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদেরও  দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।  এ ছাড়া  প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ (মান ভেদে) টাকায় ও কাঁচকলা হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চালের বাজার গত এক সপ্তাহ যাবত স্থিতিশীল রয়েছে। মুরগির ডিমের হালি ৩২ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের হালি ৪০ টাকা, দেশি মসুর ডালের কেজি ১৪০ টাকা, ভারতীয় মোটা মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১০০-১১০ টাকা, মটর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মাসকলাই ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারও দেখা গেছে অস্থিতিশীল। গতকাল গরুর মাংসের কেজি ছিল ৪৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি  কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৩৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি (প্রতি পিস) ১৯০ থেকে ২৪০ টাকা।

up-arrow