Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:৫৩
সড়কে খানাখন্দ, ভোগান্তি চরমে
অতিবর্ষণে ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গেছে
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

এশিয়ার অন্যতম জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ডের প্রবেশমুখেই বিশাল বিশাল গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। পায়ে হেঁটেও এ পথ দিয়ে চলা দুষ্কর।

রূপসা স্ট্যান্ড রোড থেকে বান্ধা বাজার হয়ে রূপসা সেতু পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি খুলনার যানবাহন চলাচলের ব্যস্ততম পথ। জানা যায়, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের নাম অনুসারে সড়কটির নাম শিপইয়ার্ড সড়ক। সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে সড়কটি ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গেছে। সড়কটির কোনো অংশই এখন আর চলাচলের উপযোগী নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন দুপুরের পর জোয়ারের পানিতে সড়কটি ডুবে যায়। সে সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও চরমে ওঠে। পানিতে গর্তগুলো ডুবে থাকায় যানবাহন চালকদের চলতে হয় অন্ধের মতো পথ হাতড়ে। বিপজ্জনক সড়কটিতে তখন যানজটের পাশাপাশি ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

খুলনায় কেবল এ শিপইয়ার্ড সড়কই নয়, মহানগরীর কেডিএ এভিনিউ, শিববাড়ী মোড়, সোনাডাঙ্গা আউটার বাইপাস, আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল রোড, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে বয়রা পর্যন্ত, গল্লামারী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড— প্রায় সব এলাকার রাস্তারই এখন বেহাল দশা। সংস্কারের অভাবে বিটুমিন-কার্পেটিং উঠে এবড়ো-খেবড়ো সড়ক আর বড় বড় খানাখন্দ দেখলে বোঝাই যায় না এটা বিভাগীয় শহর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের আওতায় মহানগরীতে ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১ হাজার ২১৫টি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরীর রাস্তা ও ফুটপাথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৯৭টি, সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৮৮টি এবং অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় আরও অর্ধশত সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বেশির ভাগ সড়কে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মহানগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ শিপইয়ার্ড সড়ক ও কেডিএ এভিনিউ সড়ক দুটি অতিবর্ষণে ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গেছে। সড়কজুড়ে এখন বিশাল বিশাল গহ্বর। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, রূপসা বাইপাস শিপইয়ার্ড সড়কটি এতদিন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংস্কার করবে বলে সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তারা এখন রাস্তাটি করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। ফলে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশন রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে মহানগরীর ক্ষতিগ্রস্ত ছোট-বড় সড়কের সংস্কার চলছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

up-arrow