Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৫
ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস
সাঈদুর রহমান রিমন

টানা ছয় দিনের ঈদের ছুটিতে যানজট আর জনজটের নগরী রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। পথে পথে নেই চিরচেনা দুর্ভোগ।

অনর্গল যানবাহনের শব্দ, ভেঁপু, হইচইয়ের শব্দও হারিয়ে গেছে। রাস্তায় রাস্তায় নেই যাত্রীভিড়, ছোটাছুটির চিরচেনা দৃশ্যপট। এখন রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাতায়াত করা যাচ্ছে মুহূর্তেই। বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানীর অধিকাংশ দোকানপাট। অনেক অলিগলি প্রায় নির্জন হয়ে পড়েছে, একাকী পথ চলতে গা ছমছম করে উঠছে। হাতে গোনা কিছুসংখ্যক বিপণিবিতানে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চললেও ফাঁকা ফাঁকা ভাবই রয়েছে সেখানে। রবিবার দেখা গেছে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। তবে তখনো যাত্রীভিড় ছিল রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথ, টার্মিনাল, স্টেশনগুলোতে। নানা কাজের চাপে যারা বাড়িমুখো হতে পারেননি, গতকাল রাজধানী ছেড়েছেন তারা।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মূলত বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা ছাড়া শুরু করে মানুষ। ঢাকা ছাড়ার বেলায় পথে পথে ভোগান্তি থাকলেও সব বিপত্তি উপেক্ষা করেই মানুষ ছুটছে প্রিয়জনের কাছে। আর নানা কারণে যারা এখনো ঢাকায় থেকে যাচ্ছেন, উপহার হিসেবে তারা পাচ্ছেন অন্য রকম এক ঢাকা। যে ঢাকায় যানজট নেই, ফুটপাথে মানুষের ভিড় নেই, বাসে নেই চাপাচাপি, পথে নেই যানজট। মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফার্মগেটের মতো রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলো ইতিমধ্যে অনেকটাই স্বকীয়তা হারিয়েছে। বিপরীত চিত্র দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে। সেখানে খুব দ্রুতই নতুন লোক জড়ো হচ্ছে, পুরনোরা ছেড়ে যাচ্ছে। তবে যতটা দ্রুতগতিতে ছেড়ে যাওয়ার আশা করে ঘরমুখো মানুষ টার্মিনালে আসছে, মহাসড়কে যানজটের কারণে তা আর হয়ে উঠছে না। তাই আনন্দের যাত্রার শুরুতেই যাত্রীদের একটা বড় অংশকে টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। যাত্রীদের চোখে-মুখে সড়কপথে দীর্ঘ ভ্রমণের শঙ্কা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রার মূল স্রোত শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসের পরপরই। নির্বাহী আদেশে আজ রবিবারও ছুটি ঘোষণা হওয়ায় টানা ছয় দিন ঈদছুটি পেলেন সরকারি চাকুরেরা।

বহু পরিবারের সব সদস্য একযোগে গ্রামের পথে পাড়ি জমানোর কারণে তাদের রাজধানীর ফ্ল্যাটটি থাকছে পুরোপুরি ফাঁকা। কেবল তালার ওপর নির্ভর করেই চলে গেছেন তারা। মুগদা এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন ও আজগর আলী জানান, এলাকায় চুরিচামারি ঘটে অহরহ। এরই মধ্যে নিজের দোতলা ফ্ল্যাটটি প্রায় অরক্ষিত অবস্থাতেই রেখে যাচ্ছেন তারা। মহল্লার অলিগলি পর্যায়ে পুলিশি টহল না থাকায় ফ্ল্যাটের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় থাকছেন আজগর আলী। মিরপুর বেনারসি পল্লীর তিন নম্বর গলির বাসিন্দা মনিরুল ইসলামও ঢাকা ছেড়ে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন সপরিবারে। তিনি বলেন, ‘বাসা বন্ধ করে রেখে যাচ্ছি। আশা করি ফিরে এসে সব ঠিকঠাকই পাব। ’ তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে নিজে ঢাকার বাসা পাহারায় থেকে গেছেন বোরহান উদ্দিন। ভাটারা থানার আজিজ সড়কে তার বাসা। বোরহান উদ্দিন বলেন, কোরবানি ঈদের সময় রোজার ঈদের চেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ে। এ সময় ঢাকা তুলনামূলক বেশি ফাঁকা মনে হয়। চমৎকার পরিবেশে কয়েকটা দিন পার করার বিরাট সৌভাগ্য ঘটে। মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা শাহনেওয়াজ জানান, গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর ভিড়ভাড়াক্কা সবই কেবল গরুর হাটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। গোটা রাজধানীই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়তে পেরে দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফুট পেট্রোল, মোটরসাইকেল পেট্রোল ছাড়াও বাড়ানো হয়েছে র‍্যাব-পুলিশের টহল। ব্যাংক ও বীমা অফিস, গরুর হাট, ঈদগাহ ময়দান, বিনোদনকেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা ঘিরে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে র‍্যাব। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পশুর হাট ও ঈদগাহ ময়দানসহ সব জায়গাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। র‍্যাব-পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকাজুড়ে পুলিশের প্রায় আড়াই থেকে ৩০০ ফুট পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রায় সমপরিমাণ মোবাইল টিমও নগরবাসীর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে। ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি থানা এলাকায় পাঁচ থেকে সাতটি ফুট পেট্রোল ও সমান সংখ্যার মোবাইল টিম কাজ করবে। থাকবে র‍্যাবের বিশেষ তত্পরতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার বড় বড় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা-বলয়। নজরদারির জন্য থাকছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এদিকে যারা ঢাকায় থাকেন তারা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমান চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, পার্ক, দর্শনীয় স্থান ও বিনোদনকেন্দ্রে। অতিরিক্ত লোক সমাগমের কারণে যাতে এসব স্থানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারেও সজাগ থাকছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow