Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৫
মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করা হলো না সুলেমানের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করা হলো না সুলেমানের

কথা ছিল বাড়িতে এসে মা-বাবার সঙ্গে এবার ঈদ করবেন সুলেমান। প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই, জীবিত নয়, লাশ হয়ে। গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস নামক কারখানায় আগুনে অন্য অনেকের সঙ্গে সুলেমানও নিহত হন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আনুহা গ্রামে। গতকাল সকালে টঙ্গী থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় তার মা-বাবা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশীরাও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। জানা গেছে, ২০১০ সালে কাজ নেন সুলেমান (৩৫)। স্ত্রী নাছিমা, ছেলে নাসির (১০) ও মেয়ে লামিয়াকে (২) নিয়ে টঙ্গী পৌরসভার পূর্ব আরিচপুর এলাকার শহীদ স্মৃতি স্কুল সড়কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। শনিবার ভোরে সুলেমান বাসা থেকে বের হয়ে কারখানায় যান। সেখানে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সুলেমানও রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুলেমানের ইচ্ছা ছিল রবিবার ঈদ বোনাস নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরবেন। মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করবেন। কিন্তু রবিবার ভোরে সুলেমান বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে। সুলেমানের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। নিহত সুলেমানের বাবা করিম বখস, মা খাদিজা বানু ও স্ত্রী নাছিমা খাতুন শোকে নির্বাক। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল জোহরের নামাজের পর আনুহা গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow