Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৯
দায়ী স্টেশন মাস্টার ও কন্ট্রোলার!
চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
দায়ী স্টেশন মাস্টার ও কন্ট্রোলার!

ফৌজদারহাট স্টেশন মাস্টার সঞ্জিব দাশ ও ট্রেন কন্ট্রোলার শহিদুল আনোয়ারের গাফিলতির কারণেই বুধবার ফৌজদারহাট ও পাহাড়তলীতে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে! এরই মধ্যে এই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনভর ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্তে কাজ করে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্যই পেয়েছেন ট্রেন দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া পাহাড়তলীর দুর্ঘটনার জন্য মহানগর গোধূলি ট্রেনের চালক কাজী নাছির উদ্দিনকেও দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে পুরো বিষয়টার জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফিরোজ ইফতেখারকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তিনি ঈদে ফৌজদারহাট স্টেশনের প্রধান মাস্টার শাহ আলম চৌধুরীকে ছুটি দিয়েছেন। অন্যদিকে কন্ট্রোল অফিসে পদ খালি না থাকলেও তিনজন সহকারী স্টেশন মাস্টারকে কন্ট্রোলে কাজ করাচ্ছেন। এতে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় সিজিপিওয়াই ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেনটি ছেড়ে আসে। ট্রেনটি ফৌজদারহাট পৌঁছলে প্রসিড হওয়ার নির্দেশ দেয় স্টেশন মাস্টার সঞ্জীব দাশ। এরই মধ্যে ওই ট্রেনকে অপেক্ষায় রেখে যাত্রীবাহী ঈদ স্পেশাল ট্রেনকে লাইন ক্লিয়ার দেওয়ার নির্দেশ দেন কন্ট্রোলার শহিদুল আনোয়ার। এরপর কনটেইনারবাহী  ট্রেনটি থামাতে এফএইচটি স্যুইচ চাপ দিলে সিগন্যাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এতে ইঞ্জিনটি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, কনটেইনারবাহী ট্রেন লাইন ক্লিয়ার দেওয়ার আগে কন্ট্রোলারের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল স্টেশন মাস্টার সঞ্জীব দাশের। একইভাবে কোন ট্রেনকে আগে ক্লিয়ার দেবে সে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল ট্রেন কন্ট্রোলার শহিদুল আনোয়ারের। এক্ষেত্রে দুজনেরই গাফিলতি রয়েছে। এতে প্রধান স্টেশন মাস্টার শাহ আলম দায়িত্বে থাকলে হয়তো এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না। একই সঙ্গে ফৌজদারহাটে দুর্ঘটনার কারণে আপ মেইন লাইন ব্লক হয়ে যায়। ফলে উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডাউন লাইনে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, তিনটি ক্রসওভার ও টেলিং পয়েন্টে লক না থাকার কারণে পাহাড়তলীতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। মেইন লাইনে এসে লুপ লাইনে নিয়ে যায়। পাহাড়তলীতে লুপ লাইনে না গেলে ক্রসওভার পার হতে হতো দুটি। দুটি ক্রসওভার পার হয়ে তৃতীয় ক্রসওভার পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী আবদুল হাই বলেন, ঈদের সময় পরিবহন বিভাগের কাউকে ছুটি দেওয়ার কথা না। কীভাবে ছুটি দেওয়া হলো আর কেন দুর্ঘটনা ঘটল সেই বিষয়ে সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন কমিটির সদস্যরা। এরপর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই পাতার আরো খবর
up-arrow