Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১১
চট্টগ্রামে ক্যান্সার ঝুঁকিতে শিশুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু এ রোগ প্রতিরোধ ও সেবায় নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি।

ফলে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। সেবাবঞ্চিত হচ্ছে আক্রান্ত রোগীরা। ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু রোগীর পৃথক কোনো ওয়ার্ড নেই। বর্তমানে শিশু সার্জারি বিভাগের একটি অংশে ৫-৬টি শয্যায় এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পৃথক একটি ওয়ার্ড চালু এখন প্রক্রিয়াধীন।

চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ২২৯ জন। এর মধ্যে শিশু সার্জারি বিভাগে সলিড টিউমারে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৬৭ জন, হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগে ব্লাড ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১৬২ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৫ জন। অন্যদিকে এ দুটি বিভাগে ভর্তি আছে ১৯ শিশু। এটি চমেক হাসপাতালের পরিসংখ্যান। এর বাইরেও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্ত শিশু থাকার আশঙ্কা আছে বলে জানান চিকিৎসকরা। তা ছাড়া কেবল গত জুলাই মাসে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬০২ জন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশুর পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষও ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা যায়।

চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা তাহমিনা বানু বলেন, চট্টগ্রামে শিশুরা ক্যান্সার আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক। তবে জন্মগতভাবে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। তার কারণ হলো গর্ভবতী মা’দের  ক্যান্সারের জীবাণু বহন করা। সে জন্য মায়েদের দরকার ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা, লাইফস্টাইল পরিবর্তন, দেশীয় ফল খাওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা ও গর্ভাবস্থায় শাক-সবজি খাওয়া। শিশুরা ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, সর্বদা জ্বর থাকা, শরীরের কোথায় ব্যথা তা শনাক্ত করতে না পারাসহ নানা অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন। জানা যায়, চমেক হাসপাতালে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা খুবই সীমিত। হাসপাতালে অভিজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও অভাব প্রয়োজনীয় উপকরণের। তা ছাড়া তিনটি পদ্ধতিতে ক্যান্সার চিকিৎসা করা হয়—অপারেশন, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি। চমেকে স্বল্প পরিসরে অপারেশন ও কেমোথেরাপির ব্যবস্থা থাকলেও সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি—রেডিওথেরাপির ব্যবস্থা নেই। এর জন্য দরকার কোবাল-৬০ টেলিথেরাপি নামে একটি মেশিন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, অনেক আগে থেকে কোবাল-৬০ মেশিনটি আনার প্রক্রিয়া চলে আসছে। শিগগিরই আসবে। এটি আসলে এ অঞ্চলে ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় অবদান রাখবে।   বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশে ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এসব খাবারের কারণে মানুষ অধিকাংশ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতনভাবে এসব কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে ৫০ শতাংশ নানা রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব। বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে প্রতিদিন চারজন শিশু ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রতি বছর ১৫ বছরের কম বয়সী ১১ হাজার ৬০০ শিশু ক্যান্সার ঝুঁকিতে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ক্যান্সার রোগী আছে। আর প্রতি ৯ জনে একজন বর্তমানে ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে  ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow