Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৮
ধ্বংসস্তূপে মিলল আরও কঙ্কাল
টাম্পাকো ট্র্যাজেডি
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘটনার ১৮ দিন পর গতকাল আরও একটি কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। বিধ্বস্ত কারখানার ছয়তলা ভবনের নিচতলায় ধ্বংসাবশেষ সরানো ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা দুপুরে আংশিক ওই দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। উদ্ধার কঙ্কাল একজনের দেহাবশেষ, নাকি আগে পাওয়া কঙ্কালের অংশ তা শনাক্ত করতে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে গতকালও নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধারকর্মীরা যৌথ ‘ফায়ার ফাইটিং অ্যান্ড রেস্কিউ অপারেশন’ চালিয়েছেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, টাম্পাকোর নিখোঁজদের সন্ধানে ওই ঘটনার ১৯তম দিনে গতকাল সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথভাবে ‘ফায়ার ফাইটিং অ্যান্ড রেস্কিউ অপারেশন’ চালান। উদ্ধার অভিযান চলাকালে দুপুরে ধসে পড়া কারখানার ভবনের নিচতলা থেকে মানবদেহের আংশিক কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একই স্থান থেকে তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। গতকাল সেখান থেকে উদ্ধার করা দেহখণ্ডটি নিহত ওই শ্রমিকদের, নাকি নিখোঁজ অন্য কোনো শ্রমিকের, তা তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় সোমবার পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় ১১ জনের নাম রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের লাশ ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত অপর ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতালে সংরক্ষিত নিহত ওই ১০ অজ্ঞাতসহ গতকাল উদ্ধার দেহাবশেষ যদি ডিএনএ পরীক্ষার পর জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত নিখোঁজ ১১ শ্রমিকের স্বজনদের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে আর কোনো শ্রমিক নিখোঁজ নেই বলে ধরে নেওয়া যাবে। এ জন্য ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের। তবে একজন নিখোঁজ থাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, টঙ্গীর বিসিক নগরীতে সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার বিশাল ভবনের অধিকাংশই ধসে পড়ে বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow