Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০৩:১০
দুই বাংলাদেশি জিতলেন আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
দুই বাংলাদেশি জিতলেন আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার

আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী।

মেরিনা তাবাসসুম এই পুরস্কার পেলেন ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদের অনন্য স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্য আর গাইবান্ধার  ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের স্থাপত্য নকশার জন্য এই পুরস্কার অর্জন করলেন কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। আবুধাবির ওয়ার্ল্ড  হেরিটেজ সাইট আল জাহিলি ফোর্টে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আসছে নভেম্বরে বিজয়ী এই দুই স্থপতির হাতে পুরস্কার তুলে দেবে আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক। পুরস্কার বাবদ তাদের প্রদান করা হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার। গতকাল দুপুরে গুলশানের ইজ গ্যালারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মুনির এম মুরালি সভাপতিত্ব করেন। বিশ্বের ৩৪৮টি স্থাপত্যকর্ম থেকে জুরিদের বাছাই করা ১৯টি স্থাপনা থেকে সেরা ছয়জনকে নির্বাচন করে আয়োজক সংস্থা আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক।

বায়তুর রউফ মসজিদ : বাংলাদেশের তরুণ স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম যে স্থাপনাটির জন্য পুরস্কার জিতেছেন তার অবস্থান রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়েদাবাদে। নাম ‘বায়তুর রউফ মসজিদ’। উত্তরার আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বদিকে রেললাইন পেরিয়ে এগোলেই দেখা মিলবে মসজিদটির। সুলতানি আমলের মসজিদের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এর স্থাপত্য। মুসলিম স্থাপত্যের আর সব মসজিদের মতো মেরিনার নকশায় গড়া বায়তুর রউফ মসজিদে গম্বুজ বা মিনার নেই।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার : গাইবান্ধার ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মদনের পাড়ায় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নামক ভবনের পুরোটাই মাটির নিচে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদের মাটি সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত। লাল ইটে একাধিক ব্লকে বিভক্ত একটি ভবন। স্থানীয়ভাবে তৈরি ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত হয়েছে ভবনটি। তাতে রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইব্রেরি, অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। বিশাল ভবনের পুরোটাই রয়েছে দৃষ্টির আড়ালে। পাশ দিয়ে চলে গেছে গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক। অথচ সেখানে দাঁড়িয়ে ৩২ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনটি চোখেই পড়ে না। কারণ পুরো ভবনটিই মাটির তলায়। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ মাটির সমতলে। তাতে লাগানো সবুজ ঘাস মিশে গেছে আশপাশের মাঠের সঙ্গে। প্রকৃতির মধ্যে মিলেমিশে যেন অদৃশ্য হয়ে আছে পুরো কমপ্লেক্স। পথচারীরা চলতি পথে স্থাপত্যকর্মটির দিকে তাকিয়ে থাকে অবাক বিস্ময়ে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow