Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৪৬
বন্দরে পণ্য খালাসে যুক্ত হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় কনভেয়র
সাত দিনের স্থলে লাগবে এক দিন
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

বন্দরে আসা চাল-ডাল-গমসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য ও খোলা পণ্য খালাসে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে আগে যে পরিমাণ পণ্য খালাসে সাত দিন সময় লাগত, এখন লাগবে এক দিনের মতো।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি খোলা বা কার্গো পণ্য খালাসের জন্য বেলজিয়াম থেকে আনা হচ্ছে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের নিউমেটিক কনভেয়র মেশিন। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করার কথা জানিয়েছেন বন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এত দিন খোলা পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে শ্রমিকরা জাহাজে উঠে বস্তায় ভরে ওজন দিয়ে খোলা পণ্য খালাস করতেন। এ কাজ করতে গিয়ে একদিকে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তেন, অন্যদিকে সময় লাগত বেশি। এসব পণ্য ওজন দিয়ে বস্তাবন্দী করতে গিয়ে বড় একটি অংশ নষ্টও হয়ে যেত। অন্যদিকে আমদানিকারক ও জাহাজ মালিকের খরচ হতো অতিরিক্ত টাকা, যা ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ত। এসব ঝামেলা এড়াতে বন্দরে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক নিউমেটিক কনভেয়র বা ডেকোভেটর। এ ধরনের একটি যন্ত্রের সাহায্যে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ টন পণ্য খালাস করা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে আরও তিনটি যন্ত্র ক্রয় করা সম্ভব হলে দিনে ৫ হাজার টন খাদ্যশস্য বা সার খালাস করা যাবে। এ যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুততম সময়ে পণ্য ওজন ও খালাস সম্ভব হবে। এতে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে বন্দরের আয়।

বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নাজমুল হক জানান, সাধারণত খাদ্যপণ্যের একটি জাহাজ থেকে খোলা পণ্য খালাস করতে ১০ থেকে ১২ দিন লেগে যায়। কিন্তু কনভেয়রের সাহায্যে খালাস শুরু হলে মাত্র তিন দিনে জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারবে। এতে বন্দরে অনেক বেশি খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। ফলে একদিকে সময় বাঁচবে, অন্যদিকে বন্দরের হ্যান্ডলিং বেড়ে যাবে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পণ্য অপচয় হবে না। পরিবেশও থাকবে দূষণমুক্ত।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী যন্ত্রটি সরবরাহ করছে কি না তা দেখতে শিগগিরই বেলজিয়াম যাচ্ছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল কুদ্দুস খান, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর শাহীন রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নাজমুল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র ট্রেনিং অফিসার আবদুল হান্নান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow