Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০
রাজশাহীর রেশম কারখানা চালু নিয়ে ধূম্রজাল
দুই প্রতিষ্ঠানে চিঠি চালাচালি
কাজী শাহেদ, রাজশাহী

সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে রাজশাহীর রেশম কারখানা চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন ও পাট মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালির মুখে পড়ে গোটা উদ্যোগই থমকে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহীর রেশম কারখানা কোনোভাবেই যেন ‘মডেল’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারছে না। এক যুগ আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটি ‘মডেল কারখানা’ হিসেবে চালু করতে ফেরতের উদ্যোগ নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। রাজশাহীর ঐতিহ্য ও বিশ্বখ্যাত রেশম বস্ত্র উৎপাদন করতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাইভেটাইজেশনের কাছে চিঠিটি দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু এতে বাদ সাধে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। কারখানাটি কীভাবে চালু হবে তা প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের নিজস্ব ব্যাপার বলে তারা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে পাল্টা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়। ফলে মডেল হিসেবে রেশম কারখানাটি চালুর আশা এখন ক্ষীণ।

তবে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক জানান, রেশম কারখানাটি কীভাবে চালু করা যায় তার জন্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা রেশমশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখন অন্য পেশায় যোগ হয়েছেন। তাদের আবার ফিরিয়ে এনে এ শিল্পটিকে চালু করা যায় কিনা, এ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তি মালিকানায় কারখানাটি ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নগরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ শিরোইল বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থিত কারখানাটির আশপাশে রেশম বোর্ডের অধীন ২০ একর মূল্যবান জমি ও তুত গাছের বাগান আছে। ১৯৬১ সালে প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর রেশম কারখানাটি স্থাপিত হয়। লোকসানের কারণে ৪১ বছর পর ২০০২ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয় কারখানাটি। ওই সময় কারখানায় চাকরিরত প্রায় ৩০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে নারী শ্রমিক বেশি ছিলেন। পাশাপাশি রেশমকে ঘিরে আরও প্রায় ৫০ হাজার পলু চাষি কর্মহীন হয়ে পড়েন। সে সময় আন্দোলন করেও বন্ধ কারখানাটি চালু করতে পারেননি নগরবাসী। ফলে এ অঞ্চলে পলু চাষের সম্প্রসারণ কমে যায়। রেশমশিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে।

১৯৭৪ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ১ দশমিক ১১ একর জমির ওপর থাকা রেশম কারখানাটিও একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow