Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
সড়ক দুর্ঘটনায় বার্ষিক ক্ষতি পাঁচ হাজার কোটি টাকা
প্রতি বছর মারা যায় ৪ হাজার মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন নতুন মহামারী। সড়ক-মহাসড়কে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তা প্রথমত এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় কিংবা নতুন কোনো মহামারী।

দ্বিতীয়ত যাত্রী দুর্ভোগের নতুন মাত্রা। তৃতীয়ত অর্থনৈতিক বিকাশে সড়ক পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে হবে। সেটি মাথায় নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে ‘সেভ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স—স্রোতা’। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্রোতার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার—পিপিআরসির সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ জোট গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতের মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা; যা জিডিপির ১-৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এ অবস্থায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এ জোট। গত ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অনেকে অনেক তথ্য দিয়েছেন। যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের মতো ছিল না; যার কারণে এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের এই নতুন সংগঠনের উদ্দেশ্য থাকবে তথ্যের যা ঘাটতি আছে তা পূরণ করা। অর্থাৎ জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা; যাতে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়। এটা এক ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক এবং পরিবহন দুটি বিষয়ই মাথায় রাখা হয়েছে। আর গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান স্রোতার গঠন নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে কর্মপরিকল্পনা চলছিল। এতে সম্মিলিত দৃষ্টিকোণ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের ডুপ্লিকেট করছি না এবং আমাদের মধ্যে কোনো ডুপ্লিকেশন নেই।

তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইনি ও অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং দক্ষ চালকের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে। আর এসব দূর করতে স্রোতা জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়া, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, বিষয়ভিত্তিক পলিসি ডায়ালগ ও গণপরিবহনের কল্যাণে নীতি প্রণয়ন এবং জেলা প্রেরণা সফরের মধ্য দিয়ে চার ধরনের কাজ করবে বলে জানান ড. জিল্লুর।

ব্র্যাক, নিরাপদ সড়ক চাই—নিসচা, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার—পিপিআরসি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন— এ ছয়টি সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণে স্রোতা যাত্রা করেছে।

এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এই জোটে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। আর জোটের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক।

জোটের আত্মপ্রকাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির সিনিয়র পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow