Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০৩:১৩
শেষ হলো সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ আত্মপক্ষ সমর্থন ২৪ অক্টোবর
সাতজনকে অপহরণ করে খুন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
শেষ হলো সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ আত্মপক্ষ সমর্থন ২৪ অক্টোবর

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডলকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন ১০ আসামির আইনজীবী।

এর আগে ২৫ আসামির আইনজীবী তাকে জেরা করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো। আগামী ২৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখে দণ্ডবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং পরীক্ষার জন্য তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল। তিন কর্মদিবসে গত ১ অক্টোবর আদালতে তার জবানবন্দি প্রদান শেষ হয়। এরপর তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে জেরা শুরু হয়। ৫ কর্মদিবসে গতকাল তার জেরা সম্পন্ন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল আসামি আবুল বাশারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ ভূঁইয়া, আসামি বাবুল হাসান, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী  মোহাম্মদ, রহম আলী, পলাতক আসামি শাহজাহান এবং জামাল উদ্দিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা মুক্তা, আসামি মিজানুর রহমান দীপুর পক্ষে অ্যাডভোকেট এস আর এম লুত্ফর রহমান আকন্দ, আসামি হাবিলদার নাসির উদ্দিন এবং এমদাদুল হকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন। মামলার তদন্ত কমর্তকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল তদন্তকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলার বিশেষ শাখার পরিদর্শক পদে কর্মরত। এদিকে গতকালও মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করেন। জেরায় নূর হোসেনের আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, নূর হোসেনের কথিত মোবাইল নম্বর-০১৬৮৪৩৭৬৫৭৬ এর ব্যবহারকারী কে ছিলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রত্যয়নপত্র নেওয়া হয়েছে কিনা? উত্তরে তদন্ত কর্মকর্তা না সূচক উত্তর দেন। মেজর আরিফ নিয়মিত নূর হোসেনের কাছে যাতায়াত করতেন এ মর্মে কোনো সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছে কিনা? উত্তরে তদন্ত কর্মকর্তা না বলেন। আসামি নূর হোসেন কারও সোর্স ছিল কিনা এই মর্মে কোনো সাক্ষী আছে? তদন্ত কর্মকর্তা এ প্রশ্নেরও না সূচক উত্তর দেন। পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর দণ্ডবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং পরীক্ষার জন্য তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীবন্দরের শান্তিরচর এলাকার তীর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং নিহত আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারের মেয়ে-জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মামুনুর রশীদ মণ্ডল ৩৫ জনকে আসামি করে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ৩৫ আসামির মধ্যে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক উপ-অধিনায়ক মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানাসহ ২৩ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এখনো র‌্যাব-১১-এর সাবেক ৮ সদস্যসহ ১২ আসামি পলাতক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow