Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৩
উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত মি. প্রেসিডেন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত মি. প্রেসিডেন্ট

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ৩০ বছর পর চীনের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশে পা রাখলেন। দুই দেশই আশা করছে, চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফর ঢাকা-বেইজিং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ‘নতুন দিগন্ত উন্মোচন’ করবে। বহুল আকাঙ্ক্ষিত সফরের সূচনায় ঢাকায় পা দিয়েই উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন শি জিনপিং। আন্তরিক আতিথেয়তায় তাকে বরণ করে নেয় ঢাকা।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের মধ্যে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বহনকারী এয়ার চায়নার স্পেশাল ভিভিআইপি বিমানটি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগে গতকাল বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে। বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে বিমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২টা ৩ মিনিটে বিমান থেকে নেমে এলে তাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এর আগে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের প্রেসিডেন্টের বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় ঢোকার পর তাকে পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর চারটি জেট ফাইটার। বিমান থেকে নেমে আসার পর রাষ্ট্রীয় এই অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ?্যমে স্বাগত জানানো হয়। একটি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পর লাল গালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান। সামরিক বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল এ সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেয়। বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শি জিনপিং সরাসরি চলে যান বিমানবন্দর সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেলে। দুই দিনের সফরে তিনি এ হোটেলটিতে অবস্থান করবেন। শি জিনপিং ঢাকায় ৭৯ সদস্যের চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর (সিসিসিপিসি) সদস্য ওয়াং হুনিং ও লি ঝানশু, স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জেইচি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের মন্ত্রী সু সাউসি, অর্থমন্ত্রী লাউ জিউই, বাণিজ্যমন্ত্রী গাউ হুচেং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ঝাউ শিয়াওসুয়েন প্রমুখ। চীনের প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি দিয়ে সাজানো হয়। বিমানবন্দর ও হোটেল লা মেরিডিয়ানের পথে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ব?্যানারে শোভা পায় সম্ভাষণ— ‘স্বাগত হে মহামান?্য অতিথি’। ১৯৮৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট লি শিয়ান ইয়ানের ঢাকা সফরের ৩০ বছর পর বাংলাদেশে আসা প্রথম চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং। এমন এক সময়ে তিনি ঢাকা এলেন, যখন বাংলাদেশ নিম্নমধ?্য আয়ের কাতার থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন?্য শিল্পায়ন আর বিনিয়োগের জন?্য মুখিয়ে আছে।

চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে সম্পর্কের ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শি জিনপিংও দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় তার চলাচলের সড়কসমূহে। বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তার চলাচলের সুবিধার্থে বিমানবন্দর সড়কের সড়ক বিভাজক ভেঙে পথ তৈরি করা হয়। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের সময় বিজয় সরণি থেকে মহাখালী পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ শেষে ফেরার সময়ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ভোগান্তিতে পড়ে অসংখ্য মানুষ। তবে ছুটির দিন হওয়ায় কর্মদিবসের তুলনায় নগরীর সড়কে মানুষ ছিল কম।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এ সময় দুই নেতার উপস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং ১২টি ঋণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। অনুষ্ঠানে ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন দুই নেতা। এরপর বিকালে হোটেল লা মেরিডিয়ানে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলাদাভাবে দেখা করেন। সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেখা করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পরে সেখানে তার সম্মানে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। এর আগে দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে এফবিসিসিআই ও চীন কাউন্সিল ফর প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)-এর যৌথ উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এতে অংশ নেন। আজ সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপর তিনি ভারতের গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

up-arrow