Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৮
চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর
ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়বে : ১৪ দল
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে। তার এই ঐতিহাসিক সফর শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কই জোরদার করবে না, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগও বাড়াবে।

ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনে এসব মন্তব্য করেন। তারা বলেন, চীনের মতো অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশীদার হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সফলতার ফসল। চীনের নেতার এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে ‘নতুন মাইলফলক’ অভিহিত করে ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা আরও বলেন, এ সময় স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ (আম্বিয়া) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত ও পাকাপোক্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারভুক্ত হতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতে চীনের প্রেসিডেন্টের সফর এবং স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তবে সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে আমাদের সফলতা আরও দৃশ্যমান হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো। স্বাক্ষরিত চুক্তি ও স্মারকগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। কেননা এ সফরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি গভীর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফর অত্যন্ত সময়োপযোগী ও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়বে।   সেসঙ্গে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের মধ্যে চীনের রাষ্ট্র প্রধানের এই সফরটা ঐতিহাসিক। এটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সফলতা বহন করবে। এই মুহূর্তে চীনের মতো অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ আমাদেরকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করায় এবং পাশে থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়বে। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে তা যে কোনো মূল্যে কাজে লাগাতে পারলে ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে। কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর এখন নতুন উচ্চতায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক। এ সফর দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সফলতা। গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ শিকদার বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী দেশ চীন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করছে, এটা ১৪-দলীয় জোটের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল কূটনৈতিক সফলতার ফসল। ন্যাপের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে পরাশক্তি দেশগুলোর অংশীদারিত্বের যে ধারা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow