Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৮
চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর
পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে : বিএনপি
মাহমুদ আজহার

কিছুদিন আগেও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি।

এরপর বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হয়ে কাজ করা ছয়জন প্রভাবশালী কূটনীতিক ঢাকা সফর করে গেলেও বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কিন্তু শুক্রবার মাত্র ২২ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় এসে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং বৈঠক করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। বৈঠকটি ১৫ মিনিটের জন্য নির্ধারিত থাকলেও তা গড়িয়েছে ৪০ মিনিটে। বিএনপির নীতিনির্ধাকররা এ বৈঠককে ব্যাপক ‘তাত্পর্যপূর্ণ’ হিসেবেই দেখছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বৈঠকে চীন বিএনপিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। অতীতে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্য দিয়ে ওই তীক্ত সম্পর্কের অবসান হয়েছে। বৈঠকে ‘পার্টি টু পার্টি’র সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে। এতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংসদের বিরোধী দলকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও সরকারকে বিশেষ ‘বার্তা’ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে দলটি।

এ প্রসঙ্গে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘এদেশের জনগণকে চীনের প্রেসিডেন্ট এই বার্তা দিয়ে গেলেন যে, এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, এই পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই। সেজন্য বিরোধী দলকে চীনের প্রেসিডেন্ট কোনো গুরুত্ব দিলেন না। দিলেন কাকে, যিনি দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। আমরা মনে করি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বার্তা বা ইশারা এই দেশের জনগণের জন্য দিয়ে গেছেন। ’ তবে সাবেক কূটনীতিক ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশের জনগণ উপকৃত হয়েছে। এ সফরকে আমি বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী বলব। কারণ, বাংলাদেশ নিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশই মুখে আশ্বাস দেয়, কিন্তু চীন তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেখিয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়ন হলে আগামী প্রজন্মের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। ’ জানা যায়, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে বিএনপির টানাপড়েন সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ঢাকায় তাইওয়ান একটি ব্যবসায়িক অফিস স্থাপন করে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় চীন। এরপর থেকেই সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ওই টানাপড়েন সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.)। তারই নিরলস চেষ্টার ফসল চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বেগম জিয়ার বৈঠক। এর আগেও চীন সফরে গেলে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেগম জিয়ার দেখা-সাক্ষাৎ হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এলেও বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের যোগসূত্র স্থাপন করেন সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান। বিএনপির কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, শুধু চীনই নয়, কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বাংলাদেশ সফরে এসে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। ওই বৈঠকও ছিল অর্থবহ। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে বেগম জিয়ার সঙ্গে জন কেরি কথা বলেন। ওই সময়ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বিএনপিকে এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক না করার অর্থ হলো বিগত সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.)। এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চীন সব সময় পার্টি টু পার্টির সম্পর্ক মূল্যায়ন করে। সেক্ষেত্রে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ও দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠক হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পার্টি টু পার্টির সম্পর্ক বাড়বে। আমার কাছে মনে হয়, এ সম্পর্কের নতুন মাত্রা পেয়েছে। অতীতের টানাপড়েন সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীনের হৃদয় বিশাল। অতীতের ছোটখাটো ভুল তারা মনে রাখে না। ’ বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে দুই দলের সম্পর্কের নতুন মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই পক্ষই চায় এ সম্পর্ক আরও বাড়ুক। এ কারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট বারবার মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকের মাধ্যমে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হলো, বাংলাদেশে শুধুমাত্র সরকার পক্ষ ছাড়া জাতীয় পার্টিকে কেউ বিরোধী দল মনে করেন না। ’ ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে পার্টি টু পার্টি, পিপল টু পিপল আর কান্ট্রি টু কান্ট্রি সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow