Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০
দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক সম্মেলন
সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার কারণে সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে একে অপরের সম্পদ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উন্নয়ন মডেল ব্যবহার করে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করাও খুব সহজ। কিন্তু নিজেদের উন্নয়নের বাধা হিসেবে রয়েছে নিজেদের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্ব, অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা হুমকির মতো কয়েকটি বিষয়। তাই এ অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য এসব দূর করে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গতকাল ঢাকায় নবম দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনের শেষ দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল  শেষ দিনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সিপিডি চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশ নেন। আফগান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উপদেষ্টা ও সিল্প রোড ইনোভেশন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল ওয়াসে হাকিকি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ কার্যকর উপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ। তবে দ্বন্দ্ব, অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে কার্যকর অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না দেশগুলো। প্রতিষ্ঠিত সার্ক সফল হচ্ছে না রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও দ্বিপক্ষীয় বিরোধিতার কারণে। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল হতে পারে অন্যতম বড় উৎস। তবে পিপিপি প্রকল্পের দক্ষ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। আন্তঃদেশীয় ব্যবসার পরিবেশ তৈরিতে সরকারগুলোকে কাজ করতে হবে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পরস্পরের সফলতার ক্ষেত্রগুলো পরস্পরের মাঝে ভাগাভাগি করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক আস্থার সংকট সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক অঞ্চল অর্থনৈতিক স্বার্থে এক হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের ঐক্যে দুর্বলতা আছে। অর্থায়নে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) একটি উৎস হতে পারে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রাজস্ব আহরণ এবং ব্যবহারে দক্ষতার অভাব রয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হারও যথেষ্ট উদার নয়। এ ছাড়া অর্থায়ন সংকট দূর করতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের কথা বলেন তিনি। আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ, ব্যাংক ও বৈদ্যুতিক খাত বেসরকারি বিনিয়োগ নির্ভর। রাজনৈতিক টানাপড়েন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বড় দেশে আমদানি-রপ্তানির জন্য ছোট দেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আফগানিস্তানের পর্সেশ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ অর্গানাইজেশনের (পিআরএসও) আহমেদ শাহ মোবারিজ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ছে। এতে বাণিজ্যও কিছুটা বাড়ছে, কিন্তু তা সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কাছাকাছি হলেও আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে খুব সামান্য। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব, সীমান্ত সংঘর্ষ ও সন্ত্রাস, পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ছে না। সেমিনারে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নেপাল টেলিভিশনের সম্পাদক শোভা শ্রেষ্ঠা, পাকিস্তানের আইএনএফএনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সাফকাত মুনির আহমেদ, একুশে টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বক্তব্য রাখেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow