Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৯
পদ্মার তিক্ততা ভুলতে চায় বিশ্বব্যাংক
ফিরছে অবকাঠামো অর্থায়ন ও বাজেট সহায়তায়
মানিক মুনতাসির
পদ্মার তিক্ততা ভুলতে চায় বিশ্বব্যাংক

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগে সৃষ্ট তিক্ততা ভুলে বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকতে চায় বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিলের পর বাংলাদেশ থেকে অবকাঠামো খাতে সব ধরনের ঋণ বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। এখন আবার নতুন করে অবকাঠমো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় তারা। অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ঢাকা সফরে এসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে পদ্মা সেতু ইস্যুতে সৃষ্ট তিক্ততা ভুলে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পুরনো উন্নয়নসঙ্গী। ফলে বাংলাদেশের যে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে চায় সংস্থাটি। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ফাটল ধরা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জিম।

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবে বাংলাদেশ। এজন্য বিশ্বব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দেবে। শুধু তাই নয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের আগে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ শতাংশের মতো। আর এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানব উন্নয়নসহ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জিম। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থ অন্য প্রকল্পে দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার ব্যাপারেও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরই এ বাজেট সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ওই প্রকল্পের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।

এর পর থেকে বাজেট সহায়তা দেওয়া থেকেও বিরত রয়েছে সংস্থাটি। অর্থ বিভাগ বলছে, বিশ্বব্যাংক-প্রধানের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে অনেক অমীমাংসিত ইস্যুর মীমাংসা হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো খাতে ঋণ ও বাজেট সহায়তা অন্যতম। দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বব্যাংকের কোনো প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার। সূত্র জানায়, সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের প্রধান বলেছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow