Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৫
অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে চট্টগ্রামের ৪৬টি স্কুল
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চিটাগাং গ্রামার স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৬৩ হাজার ও মাসিক ফি ১৬ হাজার টাকা। হালিশহর ক্যান্টনম্যান্ট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফি-পুনঃভর্তি, উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও জানুয়ারি মাসের বেতনসহ ১৬ হাজার ৫১০ টাকা।

রেডিয়েন্ট স্কুলে ভর্তি ফি ১০ হাজার ৩০০ এবং ছাড়পত্র ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রেপ-১ এ ভর্তি ১০ হাজার ৩৫০ টাকা। মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলে ছাড়পত্র নিতে আদায় করা হয় ৪ হাজার টাকা। এভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত ফি ৩০০ টাকার স্থলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাড়তি ফি আদায়ের প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচটি তদন্ত টিম। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করে আমাদের পাঁচটি টিম। এর মধ্যে ৪৬ প্রতিষ্ঠানে বাড়তি ফি আদায় করাসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক, মন্ত্রণালয়সহ চারটি দফতরে চিঠি পাঠানো হবে। আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হবে আগামীতে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শন টিমে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে ভয়াবহ তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। এদের বিরুদ্ধে আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মহানগরীর ৯৮টি স্কুল-কলেজের বিরুদ্ধে বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ পায় জেলা প্রশাসন।

 অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৯ থেকে ২৯ জানুয়ারি এসব প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করে গঠিত পাঁচটি টিম।

জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচটি টিমের সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসককে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ৫ টিমের সদস্যরা। রিপোর্টে তারা উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের সাউথ এশিয়ান স্কুলে নানা খাতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। চিটাগাং আইডিয়াল হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি নেওয়া হলেও ভাড়া বাড়িতেই স্কুলটি পরিচালিত হয়। শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইনস্টিটিউটে ভর্তি ও পুনঃভর্তি ফি, সেশন চার্জ এবং মাসিক বেতন মিলে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা। এমইএস হাইস্কুলে ২ হাজার ১৫০ টাকা। সেন্ট মেরিসে ৩ হাজার টাকা। সেন্ট প্লাসিডস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ হাজার ৯০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে এমন নৈরাজ্য ও নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত টিম। তাছাড়া অনেক স্কুলে খেলার মাঠ নেই, কোনো বিদ্যালয়ের ভবনের আছে ফাটল। কম্পিউটার ল্যাবের জন্য ফি নেওয়া হলেও ল্যাব না থাকা, স্কুল আঙিনা ও ক্লাসরুম অপরিচ্ছন্ন, বিদ্যালয়ের পাশে ডাস্টবিন, রসিদ বইয়ের হিসাবে অসামঞ্জ্য চিহ্নিত করেছে।     

এই পাতার আরো খবর
up-arrow