Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৮
শিক্ষা আলু পটোলের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে : ড. বদিউল
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের হাতে। শিক্ষাকে আলু-পটোলের ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে সুজন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ধারার গতিপ্রকৃতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মুসবাহ আলীমের সভাপতিত্বে বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজন নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, ড. স্বপন আদনান, শিক্ষাবিদ ড. শরিফা খাতুন, ড. রোবায়েত ফেরদৌস, বাম রাজনীতিবিদ হায়দার আকবর খান রনো ও রুহিন হোসেন প্রিন্স, এস এম আলী আজম, তপন কুমার দাস, সুজনের এম এন ইসলাম, তপন চৌধুরী, সেলিমা মসির, দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ এন রাশেদা। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে শিক্ষার্থীদের যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হলো— তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত বিদ্যোৎসাহী জনগোষ্ঠীর মাঝে, তার সঙ্গে দেখা দিয়েছে হতাশাও। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরেন। ড. বদিউল আলম আরও বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো— চিন্তা করা, নিজেকে বিকশিত করা এবং প্রশ্ন করার ক্ষমতা তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার বিকৃতি ঘটছে। শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। এই প্রচেষ্টা আত্মঘাতী। এই প্রচেষ্টা আমাদের অন্ধকারে নিয়ে যাবে। ‘যারা শিক্ষার ইসলামীকরণ করার কথা বলছেন- এটা তাদের জন্যই ক্ষতিকর। কারণ যত দিন মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ ছিল ততদিন তারা শ্রেষ্ঠ ছিল। ড. শরিফা খাতুন বলেন, শিশুদের যা শেখানো হয় তারা তাই শেখে। তাই আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে কী শেখাচ্ছি তা গুরুত্বপূর্ণ। ’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাঠ্যপুস্তক লেখা উচিত। হায়দার আকবর খান রনো বলেন, ‘সরকার হেফাজতের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এনেছে, এটি নিন্দনীয়। শিক্ষা আজ পণ্যে পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে যে যত বেশি টাকা দিতে পারবে তার জন্য শিক্ষা। ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষা একটি বিস্তৃত বিষয়। এর প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার। আমাদের বহুত্ববাদকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি আজকে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান পড়া ছেড়ে দিচ্ছে, এর কারণ কী, তা অনুসন্ধান করা দরকার। চলতি শিক্ষাবর্ষে দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং উদাসীনতার কারণে পাঠ্যপুস্তকে ভুল ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ড. স্বপন আদনান বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ওপর জোর দেওয়ার কারণে ভাষাগত সাম্প্রদায়িকতা তৈরি হয়েছে। আর বর্তমানে দেখা দিয়েছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা। আজকে রাজনৈতিক উদ্দেশে পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা মেধাশূন্য জাতি গড়ে তুলছি। ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা কি শিক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষ বানাতে চাই, নাকি হিন্দু বা মুসলমান বানাতে চাই।

আমরা চেয়েছিলাম মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে, অথচ আজকে সাধারণ শিক্ষার মাদ্রাসাকরণ হচ্ছে। এটি দুঃখজনক। ’ রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, একদিকে শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষায় বিনিয়োগ কম করা হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে একমুখী ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow