Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:২০
মান্নার সংবর্ধনায় বি চৌধুরী
সবকিছুরই শেষ আছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সত্য কথা বলায়, গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলায় আওয়ামী লীগ সরকার মান্নাকে জেলে নিয়েছিল। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অবদান অনেক। কিন্তু তাদের হাতে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে, ভোটাধিকারও বিপন্ন হয়েছে। ক্রসফায়ার চলছে। আসলে সবকিছুরই শেষ আছে। দেশের জনগণই একমাত্র এ সরকারকে গণতন্ত্র শেখাতে পারবে। আর কেউ নয়। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মাহমুদুর রহমান মান্নার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি। নাগরিক ঐক্য এর আয়োজন করে। এতে আরও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি   বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক সি আর আবরার, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর আবদুল মান্নান (অব.), সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্যের নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম আকরাম।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজকে দেশের এ অবস্থানে আসার জন্য সরকার দায়ী নয়। ব্যর্থ বিরোধী দল। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার অনেক কিছু করতে পারে কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর বিরোধী দলের কতটুকু প্রভাব রয়েছে তাও নির্ভর করে। দু্ই নেত্রীর কেউ ভালো নন।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দল আছে কিন্তু তাদের পেছনে মানুষ নেই। পানি ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না তেমনি মানুষ ছাড়া রাজনৈতিক দল বাঁচে না। আমি মান্নাকে ফুল দিতে এখানে আসিনি। এসেছি আরেক মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান জানাতে। আসুন, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করি। বাস পোড়ানো মামলা দিয়ে সরকার কিছু করতে পারবে না। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলে মামলা দিতে দিতে সরকারের কাগজ শেষ হয়ে যাবে। পরে ভারত থেকে কাগজ আমদানি করতে হবে। সব বিরোধী দল একটি নেতৃত্ব থেকে পরিচালিত না হলে এ সরকারের পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মান্নার জামিনে যারা বিলম্ব করেছেন তাদের একদিন জনগণের আদালতে দাঁড়াতে হবে।

আ স ম রব বলেন, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বিকল্প নেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ শক্তি গড়ে তুলতে হবে। আর তরুণদের সম্পৃক্ত করে তাদের হাতে এই নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে হবে। আসিফ নজরুল বলেন, মান্নার মৃত্যু হয়নি, জেলে গিয়ে তার পুনর্জন্ম হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি করে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন তারা মান্নাকে ভয় পান। তাই আটক করে জেলে পাঠিয়েছিলেন। সংবর্ধিত মান্না বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ন্যায়পথে রাজনীতি করলে তার সুফল পাওয়া যায়। আমি সুফল পাচ্ছি। আমি যা-ই করেছি ষড়যন্ত্র করিনি। কোনো সরকার উত্খাত করে কোনো সরকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি আমি করি না। ন্যায্য কথার কারণে যদি কেউ জেলে আটক হয়ে জামিন না পান তবে তার নাম গণতন্ত্র নয়। সবার জন্য আকাশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। দেখা যাবে মানুষ কোন দিকে অবস্থান নেয়। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow