Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৪৫
স্কুলছাত্র বিভোর হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলছাত্র বিভোর হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আটক

স্কুলছাত্র রিদওয়ান ইসলাম বিভোরকে (১১) হত্যার পরপরই আত্মগোপনে থাকতে ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছিলেন প্রধান সন্দেহভাজন আসামি আল আমীন। গন্তব্য ছিল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি। সেখানে তার মা শোভা বেগম দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সংসার পেতেছেন। তবে জয়পুরহাট যাওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ের চেকপোস্টে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আল আমীনের সত্ভাই আরমিনকেও টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাদের বাবা আবদুল মান্নান গত রাত পর্যন্ত গ্রেফতার হননি। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন বলেন, ঘটনার পরপরই পাঁচটি টিম মাঠে নামানো হয়। রাতের মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাবাকেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভোরকে কেন হত্যা করা হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিলার এখনো মুখ খুলছেন না। তবে আমরা আশা করছি শিগগিরই তিনি ঘটনার বর্ণনা করবেন। তিনি যে মাদকাসক্ত তা পরিষ্কার। ’ জানা গেছে, ৪০ বছর আগে এজাহারভুক্ত আসামি মান্নানের বাবা মৃত সেকেন্দর মুন্সীর কাছ থেকে গোলাপবাগের ১ কাঠা জমি কিনেছিলেন নজরুল ইসলাম বাবুর বাবা মৃত আফজাল মিয়া। তিন বছর আগে বাবু ওই জমিতে চার তলা ভবনের কাজ শুরু করেন। তখন থেকেই তাদের ওপর উৎপাত শুরু হয় মান্নান ও তার ছেলে আল আমীনের। মাদক মামলায় মান্নান কারাগারে থাকলেও তার জামিনের জন্য টাকা চেয়ে বার বার চাপ দিতে থাকেন আল আমীন। জামিনে বের হওয়ার পর উৎপাত আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন নিহত স্কুলছাত্র বিভোরের মামা মোসলেম উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আল আমীন ও তার বাবা মান্নানের নামে এলাকায় অভিযোগের অন্ত নেই। বাপের কেনা জমিতে সবকিছু বিক্রি করে বাড়ি বানান বাবু। এখনো বাড়ির কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে মান্নান ও তার ছেলেকে অনেক টাকা চাঁদা দেওয়া হয়েছে। আমার ভাগিনার তো কোনো দোষ ছিল না। তবে তাকে কেন মারতে গেলেন খুনিরা?’ কিছুদিন আগেও এক ছেলেকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাদের ভয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ারও সাহস করেননি ভুক্তভোগীরা। আল আমীন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার ৬০/৩ গোলাপবাগে খুন হয় স্কুলছাত্র বিভোর। সে পুরান ঢাকার নারিন্দা গভর্নমেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow