Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

শিরোনাম

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
অবশেষে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা
দুই গ্রুপে সংঘর্ষে একজন নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গ্লামারা ইউনিয়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রকল্পস্থানে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় মতবিনিময় সভায় এ সমঝোতা হয়। প্রায় এক বছর ধরে এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। মতবিনিময়ের ফলে তা প্রশমিত হলো। তবে মতবিনিময় সভা শুরুর আগে স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আহত হন মোহাম্মদ আবু (৬০), দুই ভাই মোহাম্মদ আলী (৩২) ও জামাল হোসেন (৩৭) এবং আবু সৈয়দ (২৮) ও ইউনুস (৪৫)। এর মধ্যে দুই ভাইকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং অন্য দুজনকে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মোহাম্মদ আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবু, নৌবাহিনীর পক্ষে প্রকল্প সমন্বয়ক কমডোর এম সোহেল ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী।

আবদুস সালাম লাবু বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র মহেশখালীতে হওয়ার কথা ছিল। এজন্য সেখানে জমিও কেনা হয়।

কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। প্রতিষ্ঠা হবে শিক্ষা ও সেবাপ্রতিষ্ঠান। উন্নত হবে মানুষের জীবনমান। ’

কমডোর এম সোহেল বলেন, ‘এলাকার বৃহত্তর উন্নয়নের জন্যই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করি এটি নির্মাণে গ্লামারার সর্বস্তরের মানুষ সংযুক্ত থাকবেন। এটি এলাকার মানুষের অবদান হিসেবে থাকবে। ’ লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আমরা ১২ দফা দাবি দিয়েছিলাম। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এসব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। আশা করি ৮-১০ দিনের মধ্যে এ দাবি পূরণ হবে। আমরা চাই, জমির প্রকৃত মালিক ন্যায্য মূল্য বুঝে পাক। ’ প্রকল্পসূত্রে জানা যায়, গ্লামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনার উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশের এস আলম গ্রুপ এবং চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ‘এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেড’ নামের ‘১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৬০০ একর জমির ওপর ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এস আলম গ্রুপ। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭০ শতাংশের মালিকানা এস আলম গ্রুপের আর ৩০ শতাংশের মালিকানা চীনা প্রতিষ্ঠানের।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow