Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩১
নিষ্কিয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো
বরিশাল
রাহাত খান, বরিশাল
নিষ্কিয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো

আগামী সংসদ এবং সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল গোছাচ্ছে বরিশাল আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে কর্মিসভা শুরু হয়েছে।

দল সুসংগঠিত করা ছাড়াও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। জেলায়ও চলছে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম। যে কোনো সময়ের চেয়ে সংগঠন শক্তিশালী বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি। মহানগর এবং জেলা আওয়ামী লীগ অনন্য উচ্চতায় উঠলেও ঠিক ততটাই পিছিয়ে সহযোগী সংগঠনগুলো। ২৪ বছর আগে গঠিত জেলা যুবলীগ কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিনের বয়সের ছাপ পড়ে গেছে। সভাপতি জাকিরকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক শাহিন পেয়েছেন সম্পাদকীয় পদ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জাতীয় বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়া জেলা যুবলীগের তেমন কোনো সাংগঠনিক তত্পরতা নেই। ১৯৯৬ সালে গঠিত মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন। যুগ্ম-আহ্বায়ক তিনজনের মধ্যে মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মেজবাউদ্দিন জুয়েল মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সদস্য হয়েছেন। মহানগর যুবলীগ কাগুজে সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

১৯৯২ সালে জগলুল হায়দার শাহিনকে সভাপতি ও মনিরুল ইসলাম মনিরকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২০০৬ সালে আজিজুর রহমান শাহিনকে আহ্বায়ক ও অপর দুজনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে গঠিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্তিত্ব কেবল বিশেষ দিনে ফুল দেওয়া আর শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। ২০১১ সালের ৯ জুলাই সুমন সেরনিয়াবাতকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও জসিমউদ্দিনকে সভাপতি ও অসীম দেওয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি ৫ বছরেও। জেলা সভাপতি সুমন বাদে ছাত্রলীগের অন্যরা টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারিতে ব্যস্ত। ২০১৫ সালে আফতাব হোসেনকে সভাপতি এবং পরিমল চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি। পয়লা মে শ্রমিক দিবস এবং বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি পালন ছাড়া তেমন কোনো তত্পরতা নেই মহানগর শ্রমিক লীগের। টেম্পো শ্রমিক নেতা মো. শাহজাহানকে সভাপতি এবং মো. হারুন-অর রশিদ তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি হয় ২ বছর আগে। বিভিন্ন গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম নেই তাদের। প্রায় ৬ বছর আগে সাইফুল আলম গিয়াসকে সভাপতি ও শেখ মিজানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কৃষক লীগ শুধু কাগুজে সংগঠনে পরিণত হয়েছে। মহানগরীতে কৃষক লীগের কমিটি নেই। পারুল বেগম মাহেরুকে সভাপতি এবং ফেরদৌস জাহান মুন্নীকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ৫১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। এ কমিটির কেউ মারা গেছেন, কেউ বিদেশে আছেন, আবার কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্নী। ফজিলাতুন্নেছা ফরিদকে সভাপতি এবং কহিনুর বেগমকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয় ২০০৪ সালে। এখন পর্যন্ত নগরীর সব ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন সাধারণ সম্পাদক কহিনুর বেগম। ২০০৩ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাডভোকেট মঞ্জুয়ারা বেগমকে সভাপতি ও শারমিন মৌসুমী কেকাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুব মহিলা লীগ এবং পরদিন অ্যাডভোকেট নাজমা বেগম শিউলীকে সভাপতি ও ফরিদা ইয়াসমিন নিয়াজীকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠিত হয়। কেকা বলেন, জেলা যুব মহিলা লীগের অর্ধেক সদস্য নিষ্ক্রিয়। মহানগর যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা বেগম শিউলী বলেন, জাতীয় দিবসগুলো ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন নিয়াজী বলেন, সভাপতি আর তিনিই আছেন। সভাপতি কোর্টে আইন প্রাকটিস করেন, তাই তাকেই সব করতে হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, আগামী নির্বাচনের আগেই সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি হালনাগাদ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow