Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩২
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিপুত্রকে নিয়োগ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে অবশেষে ভিসির ছেলে ওয়াদুদ উল আলমকে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এ নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।   বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক পেজে মো. আসাদ চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, উপাচার্য মোহিত উল আলমের ছেলে ওয়াদুদ উল আলম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা সত্ত্বেও তাকে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যার নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এদিকে সদ্য নিয়োগে ভিসির একান্তভাজন হিসেবে পরিচিত শিবির নেতা সহকারী রেজিস্ট্রার এহসানের ভাই ইমতিয়াজ হাবীব এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-২ নিয়ে পাস করলেও তাকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গরু এবং আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দুটি মামলা হয়েছে। নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দিদারুল ইসলাম ভূইয়া বাদী হয়ে করা মামলার আসামিরা হলেন রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীব, সহকারী রেজিস্ট্রার আফরোজা সুলতানা ও সহকারী রেজিস্ট্রার শিক্ষা আমিনুল ইসলাম। অন্যদিকে নূরুল বাকী খান বাদী হয়ে করা আরও একটি মামলায় রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম ও সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীবকে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ ধারায় দুটি মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির ধারক-বাহক। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার অপকর্মে জড়িত। গত বছরের ১৬ আগস্ট আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীব তার ফেসবুক আইডিতে আওয়ামী লীগকে হেয় করে স্ট্যাটাস এবং ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী, আমলা ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন। এ ছাড়াও চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এহসান হাবীব অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গরু মন্তব্য করে স্ট্যাটাস লিখেছেন। যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বলে এজাহারে দাবি করেন বাদী। সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ভিসি প্রফেসর ড. মোহিত উল আলমের ছেলে ওয়াদুদ উল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তারিকুল ইসলাম একটি স্ট্যাটাস লেখেন। এতে তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলজনক নয়, সে প্রার্থী যেই হোক’। এমন স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীব পাল্টা স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টা প্রাইভেট পাবলিক না। বিষয়টা হলো মেধার। যোগ্যতার। আপনি পাবলিকের গরু  নেবেন, নাকি প্রাইভেটের মেধা নেবেন?’ এর আগে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘পাবলিকের অনেক গরু প্রতিদিন আমি আমার বাড়ির মাঠে ঘাস খেতে দেখেছি। ’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এসব স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ ইস্যুতে তারা টানা দুই দিন আন্দোলন করে এহসান হাবীবের বহিষ্কার দাবি করলে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডক্টর মোহিত উল আলম সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীবের সাময়িক বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow