Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৬
এখনো মুক্তি মেলেনি সাংবাদিক নাজমুলের
আদালত প্রতিবেদক
এখনো মুক্তি মেলেনি সাংবাদিক নাজমুলের

এখনো মুক্তি মেলেনি সাংবাদিক নাজমুল হুদার। মুক্তির স্বাদ নেওয়ার জন্য এখন তিন মামলার জামিনের অপেক্ষায় রয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই সাভার প্রতিনিধি।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কারাগারে বসে তাই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে সাংবাদিক নাজমুল জানিয়ে রেখেছেন, যদি এ তিন মামলায় জামিন মেলে তবে জেল থেকে বেরিয়েই ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় মুখ খুলবেন। পারিবারিক সূত্রের খবর, কারাগারে ভালো নেই অসুস্থ নাজমুল হুদা। সকালে পুরনো আটার আধপোড়া একটি রুটি ও ছোট এক টুকরা গুড় জোটে ভাগ্যে। দুপুরে নিম্নমানের গন্ধযুক্ত চালের ভাত, সামান্য আলুভর্তা ও বুড়ো লাউয়ের ঝোল এবং রাতে ভাতের সঙ্গে সামান্য ডাল ও ভাজি দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে দেওয়া হয় মাছ-মাংসের খুবই ছোট টুকরা। রান্নায় লবণ পর্যন্ত ঠিকমতো দেওয়া হয় না।

এদিকে সাংবাদিক নাজমুলের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এলাকার শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির ঘটনায় মামলা করার কথা শিল্পাঞ্চল পুলিশের। কিন্তু তা না করে মামলা করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তাই এ মামলার পেছনে আশুলিয়া থানা পুলিশের আলাদা উদ্দেশ্য রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা ২০ তারিখ দেখালেও মামলা করা হয়েছে ২৪ তারিখ। মামলার অভিযোগে এ বিলম্বের বিষয়ে কোনো বক্তব্য উল্লেখ নেই। এ ছাড়া অনলাইনের কোন ঠিকানায় সাংবাদিক নাজমুল হুদা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে অপরাধ করেছেন, সেই ঠিকানাও এজাহারে উল্লেখ করেনি পুলিশ। ঢাকার আশুলিয়া থানায় গত বছর করা প্যান্ট চুরির মামলাসহ আরও পাঁচটি পৃথক মামলায় সন্দেহ করে সাংবাদিক নাজমুলকে আসামি বানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার বাদীরা সাংবাদিক নাজমুলকে এজাহারে আসামি করেননি। এ ছাড়া তারা অভিযোগের কোথাও সন্দেহের তালিকায়ও রাখেননি তাকে। তবু আশুলিয়া পুলিশের সন্দেহ হয় সাংবাদিক নাজমুল ওই প্যান্ট চুরিসহ পাঁচ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। আসলে এসব মামলায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, এর বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বাংলাদেশ প্রতিদিন যে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে, সেই সংবাদের কারণে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়া হয়নি, যা ঘটনা শুধু সেটুকুই প্রচার করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী ওই সংবাদে পুলিশ, বিজিএমইএ নেতাসহ নানা তরফের বক্তব্য যুক্ত রয়েছে। আসলে পূর্বশত্রুতার কারণে অসাধু ব্যক্তিদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য শ্রমিক উসকানির অছিলা দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এসব মামলায় আসামি বানানো হয়েছে নাজমুলকে। এসব মামলার মধ্যে ঢাকার আশুলিয়া থানার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলাসহ মোট তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন নাজমুল। এখনো জামিনের অপেক্ষায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এই তিন মামলায় যত দিন জামিন না পাবেন, তত দিন বিনা বিচারে সাংবাদিক নাজমুলকে থাকতে হবে কারাগারে।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাকার আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে রিপোর্ট করায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনেসহ ছয়টি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের নিষেধ অমান্য করে সংবাদ প্রচার করায় আক্রোশের শিকার হয়ে নাজমুল এখন কারাগারে আছেন। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করে। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পুলিশ গত বছর করা ঢাকার আশুলিয়া থানার প্যান্ট চুরির মামলাসহ আরও পাঁচটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে আদালতে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow