Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৫৯
অলিগলিতে অস্থায়ী হাট হাঁটা যায় না নির্বিঘ্নে
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
অলিগলিতে অস্থায়ী হাট হাঁটা যায় না নির্বিঘ্নে

বাসা থেকে বের হয়ে গলিপথ পার হতেই যানজট। অলি-গলিতে ভ্যান গাড়িতে তরকারি, সবজি ও বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে দাঁড়িয়ে চালক।

গলির রাস্তায় কাভার্ড ভ্যান রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে প্রেসের মালামাল ওঠানামার কাজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত খেলার মাঠের সংকট। অলিগলিতে ময়লার স্তূপ। ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ভালো না ধাকায় বর্ষা  মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। গ্যাস সংকট। তীব্র নিরাপদ পানির সংকট। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, মশা-মাছির উপদ্রব। বাজারের স্থান সংকট, ফুটপাথ দখল। মাদকদ্রব্যের ছড়াছড়ি। সরেজমিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই চালচিত্রই মিলেছে।

চামেলীবাগ ও আমিনবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন,  পুরানা পল্টন জিপিও, বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়াম,  (সুইমিং পুল, স্পোর্টস কাউন্সিল), আউটার স্টেডিয়াম,  বিজয়নগর, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন লাইন, ট্রাফিক পুলিশ ব্যারাক, পুলিশ হাসপাতাল ও সিএন্ডবি মাঠ, শান্তিনগর, শান্তিনগর বাজার ও মুক্তাঙ্গন নিয়ে এই ওয়ার্ড।

সরেজমিন দেখা যায়, বিজয়নগর থেকে সিটিহার্ট মার্কেট পর্যন্ত মূল সড়কে দুই পাশে প্রাইভেটকার পার্কিং করে রাখায় সবসময় যানজট লেগেই থাকে। এ ছাড়া এ সড়কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সিটিহার্ট মার্কেট ও পলওয়েল মার্কেট থাকায় যানজট লেগেই থাকে। নয়াপল্টন মসজিদ গলিতে দেখা যায়, একের পর এক ভ্যান গাড়িতে সবজি ও ফল বিক্রি হচ্ছে। প্রায়  প্রতিটি ভবনের নিচতলায় প্রেসের ব্যবসা থাকায় কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে মালামাল ওঠানামা করছে। কালভার্ট রোড থেকে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির গলি পর্যন্ত রাস্তায় ড্রেনের পানি দিনের পর দিন জমে থাকে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চামেলীবাগ ও আমিনবাগ এলাকার বাসিন্দারা ভাঙা রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার। স্বস্তিতে নেই পাশের সিদ্ধেশ্বরী, শান্তিনগর এলাকার লোকজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কগুলোতে ছোট-বড় গর্তে ভরা। পিচ, ইট-সুরকি, খোয়া উঠে গেছে। মালিবাগ মোড় থেকে গুলবাগের দিকে যেতে পড়ে সরু রাস্তা। একপাশে ড্রেন। সেই ড্রেন ভাঙতে ভাঙতে এখন রাস্তাও ভাঙার উপক্রম।

শান্তিনগর রাস্তার খানাখন্দ দেখিয়ে সুপ্রভাত বাসের চালক কালাম হোসেন বলেন, সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। রাস্তায় জমে থাকা পানির নিচে গর্ত আছে কি নেই, আগেভাগে বোঝার কোনো উপায় নেই। ভাঙা রাস্তায় গাড়ির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা পর্যন্ত ফুটপাথ দখল করে বই, ফল ও চায়ের দোকান রয়েছে। বায়তুল মোকাররমের সামনের ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। দখল করে শার্ট, প্যান্ট পাঞ্জাবির দোকান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল রাস্তায় প্রাইভেটকার সারা দিন পার্কিং করে রাখে। এসব কারণে পুরানা পল্টন, জিপিও এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তবা জামান পপি বলেন, রাস্তাঘাটের সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেয়র ঘোষিত নানান কর্মসূচি বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কাজগুলো শেষ হলে এর সুফল পাওয়া যাবে। তবে জনগণকেও এসব বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow