Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৭
অরক্ষিত রাবির আবাসিক হল
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় নিত্য চুরি, ছিনতাই
মর্তুজা নুর, রাবি
অরক্ষিত রাবির আবাসিক হল

চাঁদাবাজি, মাদক সেবন, ল্যাপটপ চুরি, এমনকি বহিরাগতদের হলে অনুপ্রবেশ বাড়ায় অনিরাপদ হয়ে উঠছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলো। হল গেটের প্রহরায় পুলিশ থাকলেও তারা মুঠোফোনে কিংবা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলগুলোয় চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের হলে তোলার পর প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন তারা। কোনো শিক্ষার্থী চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তাকে ছাত্রশিবির আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে ১০ শিক্ষার্থীকে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা শেষ হওয়ার আগেই কক্ষগুলো দখল করে রাখছে ছাত্রলীগ। ফলে হলে সিট বরাদ্দ পেয়েও উঠতে পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হলে ওঠার জন্য তাই ছাত্রলীগের শরণাপন্ন হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনা শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলে বেশি ঘটছে। এদিকে গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাদ কিংবা কক্ষগুলোয় চলছে মাদক সেবন।

মাদার বখ্শ হলের তৃতীয় ব্লক, হবিবুর রহমান হলের প্রথম ব্লক, জিয়া হলের দ্বিতীয় ব্লক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২১৫ থেকে ২৩৩ কক্ষ ও শাহ মখদুম হলের ছাদে মাদক সেবন বেশি চলে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষরা অবগত থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এসব ঘটনা আমার জানা নাই। এ রকম ঘটনার সঙ্গে কোনো ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

অন্যদিকে গত তিন মাসে মাদার বখ্শ, জিয়াউর রহমান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শহীদ শামসুজ্জোহা, মতিহার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল থেকে ১৮টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সাইকেল ও মোবাইল ফোন সেট চুরির ঘটনা হামেশাই ঘটছে। সরেজমিন দেখা গেছে, হলগুলোয় হকার ও রিকশাচালকরা ঢুকছেন অবাধে। কেন, কোথায় যাচ্ছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর নবাব আবদুল লতিফ হলে খুন হওয়া শিক্ষার্থী লিপুর খুনিরা চার মাসেও শনাক্ত না হওয়ায় আবাসিক হল নিয়ে শঙ্কা, উদ্বেগ ও অনিরাপদ বোধ করছেন শিক্ষার্থীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow