Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৫১
বাজারে মাংস নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে মাংস নেই
বাজার দর

রাজধানীর বাজারে মাংস নেই। দু-এক জায়গায় গোপনে বিক্রি হলেও প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম রাখা হয়েছে ৫৫০ টাকায়।

ফলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির চলমান ধর্মঘট ও শীতকালীন সবজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাংস ও সবজির দাম বেড়েছে। মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি মানলে ৩০০ টাকা কেজি গরুর মাংস বিক্রি করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের বিষয়ে আগামীকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভার আয়োজন করা হয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির তালিকায় আরও রয়েছে ভোজ্যতেল, আলু, করলা ও বেগুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্য। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে এসব পণ্য ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমন অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা কমেছে।

গতকাল রাজধানীর বারিধারা ও মিরপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে  কেজি প্রতি আলু ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকায়।   বেগুন ৫০, করলা ৬০, শসা ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, টমেটো ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায়, পেঁপে ৫ টাকা বেড়ে ৩০, কচুর লতি ১০ টাকা বেড়ে ৫০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে    প্রতি পিস ২৫  থেকে ৩০ টাকায়, শালগম কেজি ৩০, মুলা ২০, শিম ৩০ থেকে ৪০, কাঁচামরিচ ৬০ ও ঢেঁড়স ৮০  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালশাক, ডাঁটা ও পুঁইশাকের আঁটি  বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়।

তবে পিয়াজের দাম ১/২ টাকা কমে রকমভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ ও ২৫ টাকায়। আদা কমে ৭০ টাকায়, মসুর ডাল ১২০, বিদেশি মোটা দানা ৯০, মুগডাল ১১০, ছোলা ৮০, সয়াবিন তেল (বোতলজাত) তিন টাকা বেড়ে ১০২ টাকায়, খোলা তেল (মানভেদে) ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে দেখা যায়, নাজিরশাইল প্রতি কেজি দুই টাকা কমে ৫০ টাকায়, মিনিকেট ৫২ টাকায় ও মোটা চাল (স্বর্ণা) ৩৬ থেকে ৩৮, বিআর-২৮ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লতাশাইল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছের বাজারে দেখা গেছে, ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম বেড়েছে। গতকাল এক কেজি ওজনের দুটি বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। এক কেজি শিং ৫০০, শোল ৪০০, টেংরা ৫৫০, পাঙ্গাশ ১৬০, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া এক কুড়ি কৈ ৩০০, চিংড়ি মান ও আকার ভেদে ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, দেশি মুরগি আকারভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০, পাকিস্তানি মুরগি ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, গরুর মাংসের দোকান বন্ধ রাখার কারণে বাজারে খাসির মাংসও পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল দু-একটি জায়গায় গোপনে বিক্রি হলেও গরুর মাংস ৫৫০ ও খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

সংবাদ সম্মেলন : গতকাল ডিআরইউ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম দাবি মানলে ৩০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। দাবি মানা না হলে ধর্মঘট হবে সারা দেশে। আর সব দাবি পুরোপুরি মানলে ও বৈধ পথে গরু আমদানি করা গেলে এই দাম নেমে আসবে ৩০০ টাকার নিচে। এর আগে ৪ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতি মাংস বিক্রি বন্ধ রাখে। বিভিন্ন দাবি আদায়ে ছয় দিন মাংসের দোকান বন্ধ রাখার সময় শেষ হচ্ছে আজ। আগামীকাল থেকে ফের ঢাকা সিটি এলাকায় মাংস বিক্রি শুরু হবে। মহাসচিব আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি আদায়ে কাল বাণিজ্যমন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। বৈঠকে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন রবিউল আলম। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গাবতলী হাটে অতিরিক্ত ইজারা আদায় বন্ধ, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া ও বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আমদানির অনুমতি, ট্যানারিতে চামড়া নেওয়া ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow