Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:২০
চারজনের কক্ষে ২৬ জনের বাস
ফরহাদ উদ্দীন
চারজনের কক্ষে ২৬ জনের বাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হলের ২১৫ নম্বর কক্ষ। দীর্ঘ দুই যুগ পর স্মৃতিবিজড়িত এই কক্ষে হঠাৎ হাজির হলেন একজন সাবেক ছাত্র।

সঙ্গে স্ত্রী আর একমাত্র কন্যা। তাদের দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন ছাত্রজীবনে যে কক্ষে সাত বছর কাটিয়েছেন সেটি। বিভাগের অ্যালামনাইয়ের পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে গিয়ে নাড়ির টানে ছুটে গেলেন কক্ষটি দেখতে। তবে অনেক আশা নিয়ে যাওয়ার পর আনন্দিত হওয়ার পরিবর্তে অনেকটা ব্যথিত হলেন তিনি। কারণ চারজনের চার বিছানার সেই কক্ষে এখন বসবাস করছেন ২৬ জন ছাত্র। ঢালাই বিছানা করা এটি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের কক্ষ নয়, বস্তিঘর। বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন-যাপন হতাশ করে তাকে। সাবেক এই শিক্ষার্থীকে পেয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীরা তার কাছে তুলে ধরেন তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা। এই প্রতিবেদকের কাছে এমনটি বর্ণনা করলেন হলের সাবেক সেই শিক্ষার্থী।

তিনি জানান, আশির দশকে ছাত্র থাকা অবস্থায় এ কক্ষে তারা চারজন থাকতেন। সবার জন্য পড়ার আলাদা টেবিল আর চেয়ার ছিল। ছিল পড়ালেখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। তবে কক্ষটির এখনকার অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত। বর্তমান শিক্ষার্থীরা জানান, এটিতে গাদাগাদি করে তারা ২৬ জন থাকেন। যা ধারণক্ষমতার চেয়ে ছয়গুণের বেশি। পুরো কক্ষে ১০টির মতো বেড বিছানো। এখানে টেবিল-চেয়ার রাখা তো দূরের কথা দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। কক্ষেরভিতরে যে খাটগুলো ছিল সেগুলো রাখা হয়েছে বারান্দায়। পড়ালেখার পরিবেশ নেই। নেই ঘুমানোর মতো অবস্থা। অনেক সময় তাদের শিফট করে ঘুমাতে হয়। কেউ রাতে ঘুমান আর কেউ দিনে। রাতে ঘুমানোর জায়গা না থাকলে তারা ক্যাম্পাসে আড্ডা দিয়ে সময় কাটান। এ ছাড়া নোংরা পরিবেশের কারণে ছাড়পোকার উপদ্রব তো রয়েছেই। অনেকে সর্দি-কাশি-জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হন। কক্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি একটি ‘গণকক্ষ’। হলে আসার পর নতুন শিক্ষার্থীদের এই ধরনের কক্ষে থাকতে হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে হয়। আমাদের পারফরম্যান্সে বড় ভাইয়েরা সন্তুষ্ট হলে ভালো কক্ষে যেতে পারব।   তিনি বলেন, এই ছোট কক্ষটিতে আমরা বেশ কজন থাকি। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমাতেও কষ্ট হয়।   হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন ব্যবস্থা বাড়ানো পায়নি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মফস্বল থেকে আসায় তারা ক্যাম্পাসের বাইরে মেস কিংবা বাসায় থাকার সামর্থ্য রাখে না। যে কারণে প্রত্যেক হলে কিছু শিক্ষার্থীকে গণকক্ষে থাকতে হয়। তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য আমরা রিডিং রুমের সংখ্যা বাড়িয়েছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow