Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৩৩
অর্ধেক শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নেই
ফরহাদ উদ্দীন
অর্ধেক শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নেই

আবাসন সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। দেশের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি আবাসিক হল ও দুটি ছাত্রাবাস রয়েছে।

এতে প্রায় ১৫-২০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা হলেও বাকি অর্ধেক শিক্ষার্থীর জন্য কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়ছে না আবাসনের ব্যবস্থা। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসন সমস্যার কারণে কোনো কোনো হলের অবস্থা উদ্বাস্তু শিবিরের পরিবেশকেও হার মানায়। গণরুমগুলোতে আটজনের বিপরীতে থাকছে অন্তত ২০-৩০ জন। অনেকেই রাতকাটায় হলের বারান্দা কিংবা মসজিদে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। এর মধ্যে বিজয় একাত্তর হলে এক হাজার জন, শহীদুল্লাহ হলে এক হাজার ২২৫ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৭৬৬ জন, জগন্নাথ হলে এক হাজার ৭২২ জন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৮০৫ জন, জহুরুল হক হলে এক হাজার ৩২৫ জন, সূর্যসেন হলে এক হাজার ৭৪ জন, হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলে এক হাজার ৩০০ জন, কবি জসীমউদ্্দীন হলে ৭৬৯ জন, স্যার এফ রহমান হলে ৬০২ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৭০৩ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৯৩৪ জন, অমর একুশে হলে ৬১০ জন, রোকেয়া হলে এক হাজার ৬০০ জন, শামসুন্নাহার হলে এক হাজার ৩৫০ জন, কুয়েত মৈত্রী হলে এক হাজার ৬১ জন, স্যার পিজে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলে ১১৯ জন, বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলে এক হাজার ১৫০ জন এবং নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্রী নিবাসে ১৬০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। এ ছাড়াও অনাবাসিক এবং দ্বৈতাবাসিক হিসেবে হলে অবস্থান করছে অনেক শিক্ষার্থী।

আবাসন সুবিধার চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হলগুলোতে গাদাগাদি করে বাস করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল প্রশাসনের তদারকির অভাবে হলের সিট বণ্টনে নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। অনেক হলে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা সিট নিয়ে করছে নানা বাণিজ্য। অনেক নেতা হলে সিট ভাড়াও দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া সিট বণ্টনকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে। ছাত্র নেতারাই প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। হলে ছাত্র উঠানো এবং নামানো থেকে সব কিছুই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্রনেতারা। হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতাকে পুঁজি করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা সিট নিয়ে বাণিজ্য করছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আবাসন সংকট খুব দ্রুত নিরসন করা সম্ভব নয়। বিজয় একাত্তর হল চালু হওয়ার পর সংকট কিছুটা কমেছে। আরও দুটি নতুন ভবন নির্মিত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow