Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৩
ভোগ্যপণ্যের দামে ঠকছেন ভোক্তারা
নির্ধারিত পদ্ধতিতে শুল্কায়ন
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে চালের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার কমেছে। সে হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি চালের মূল্য কমেছে কমপক্ষে ৮ টাকা।

কিন্তু বাস্তবে দেশের বাজারে চালের দাম ১ টাকাও কমেনি, বরং অস্বাভাবিক বেড়েছে। মূলত আমদানিকৃত পণ্যে নির্দিষ্ট শুল্কায়ন পদ্ধতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমলেও ভোক্তারা সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে আমদানিকৃত চালের বেশির ভাগই আসছে ভারত থেকে। বর্তমানে ভারতে পণ্যটির রপ্তানি মূল্য টনপ্রতি ২৮০ থেকে ২৯০ ডলার। ভারত থেকে আমদানিকৃত লংগ্রিন (মাঝারি মানের) ২৮০ ডলারে কেনা হলেও পণ্যটির শুল্কায়ন করা হচ্ছে ৪০০ ডলার মূল্যের ওপর। কারণ নির্দিষ্ট শুল্কায়ন পদ্ধতিতে চালের আমদানি মূল্য ৪০০ ডলার হিসাব করে শুল্কায়ন করে কাস্টমস। ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ শতাংশ হারে বর্তমান আমদানি মূল্য (২৮০ ডলার) অনুযায়ী প্রতি টন চালের শুল্কায়ন হওয়ার কথা ২ হাজার ২৪০ টাকা। কিন্তু নির্দিষ্ট বা স্থায়ী শুল্কায়নের কারণে বর্তমানে প্রতি টন চালে শুল্কায়ন হচ্ছে ৮ হাজার ৮৮৩ টাকা। অর্থাৎ আমদানি মূল্য কমলেও প্রতি টন চালে ৬ হাজার ৬৪৩ টাকা বেশি শুল্কায়ন করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কমলেও দেশি বাজারে কমছে না।

ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, শুধু চাল নয়, আরও অনেক ভোগ্যপণ্য রয়েছে যেসব পণ্যের শুল্কায়ন হয় নির্ধারিত পদ্ধতিতে। এসব পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে আমদানিকৃত মূল্যের সর্বোচ্চ দামে। কিন্তু মৌসুমের সময় বিশ্ববাজারে পণ্যগুলোর দাম কমলেও শুল্ক গুনতে হয় অনেক বেশি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশি ভোগ্যপণ্যের বাজারে পণ্যগুলোর দাম খুব বেশি কমে না। এতে ঠকতে হয় ভোক্তাদের। জানা গেছে, আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের শুল্কমূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর চিঠি দিয়েছে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানিনীতিতে এ রকম অনিয়ম থাকলে তা অবশ্যই পরিবর্তন করা দরকার। পণ্যের বাড়তি শুল্কায়নের প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow