Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ০২:১০
মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান আজ থেকে
নগরীকে যানজটমুক্ত ও মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থাই টার্গেট
শফিকুল ইসলাম সোহাগ

২০ বছরের পুরনো গণপরিবহনের বিরুদ্ধে রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে অভিযান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে।

আজ সকালে মেয়র সাঈদ খোকন নগর ভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নগরীকে যানজটমুক্ত ও মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ অভিযান শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে যানজটের জন্য ১৪টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ নাগ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পুরনো বাসের বিরুদ্ধে আজ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমাদের অভিযান শুরু হবে। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ’

জানা যায়, ঢাকায় ১৯৩টি রুটে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করে। এর মধ্যে সহস্রাধিক বাস ২০ বছরের পুরনো। সেগুলোকে রাজধানীতে চলাচলের জন্য আর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রুট পারমিট ছাড়াই নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী বহন করে চলেছে বাসগুলো। যাত্রীবাহী এসব বাস যে কেউ দেখলেই বুঝবে এগুলোর ফিটনেস নেই। জেনেশুনেই যাত্রীরা এসব বাসে চড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বিআরটিএ সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে বিআরটিএ এসব লক্কড়-ঝক্কড় বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এখন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ফিটনেস টেস্ট করা হয়। সে কারণে পুরনো বাসগুলোকে আর ফিটনেস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, বিআরটিএ ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা দেন, ২০ বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবহৃত বাস রাজধানীতে আর চলতে দেওয়া হবে না। পরে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ নাগকে প্রধান করে এ-সংক্রান্ত একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। এর সদস্য রাখা হয়েছে তিন সংস্থার তিন কর্মকর্তাকে। আর প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে। বৃহস্পতিবার নগর ভবনে ওয়ার্কিং কমিটির এক সভায় আজ রবিবার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়রের ঘোষণার পর বিষয়টি সম্পর্কে বাসমালিক-শ্রমিকরাও জেনেছেন। গাজীপুর থেকে সায়েদাবাদ সড়কে চলা তুরাগ পরিবহনের চালক সোহেল হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন অভিযান করবে শুনেছি। দেখা যাক কী হয়। তবে তেমন কিছু হবে বলে মনে হয় না। ’

যানজটের ১৪ কারণ চিহ্নিত : ডিএসসিসির নেতৃত্বে গঠিত একটি ওয়ার্কিং কমিটি যানজটের কারণ হিসেবে ১৪টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এগুলো হচ্ছে— ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে দোকান, ব্যবসা চালানো, যত্রতত্র পার্কিং, এলোপাতাড়ি যানবাহন দাঁড়ানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, জরাজীর্ণ, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস চলাচল এবং হঠাৎ রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজেও এলোপাতাড়িভাবে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষার মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করা, রিকশা ও গাড়ি একই লেনে চলা, সিগন্যালে সঠিকভাবে বাঁ লেন ব্যবহার না করে রাস্তা বন্ধ করা, পথচারীদের ফুটপাথ, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, রাস্তায় অবৈধভাবে লেগুনা, টেম্পো, সিএনজি স্ট্যান্ড বসানো, রাস্তাজুড়ে আবর্জনার কনটেইনার রাখা, ম্যানুয়েল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, অপ্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও বৈধ প্রকৃত লাইসেন্সবিহীন চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়াভাবে লাইন, লেন না মেনে মোটরসাইকেল চালানো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow