Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ০২:৪৫
আর্সেনিক ঝুঁকিতে দেশের দুই কোটি মানুষ
বছরে মারা যাচ্ছে ৪৩ হাজার
মাহবুব মমতাজী

দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এখনো আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ১৯৯০ সালকে ২০১৭ সালের সঙ্গে তুলনা করে আর্সেনিকের মাত্রা অনেকখানি কমে গেছে— এমন তথ্য জানানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

বেসরকারি সংস্থাগুলো জানায়, মাত্রা কমেনি। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতে, আর্সেনিক অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আর্সেনিকে দূষিত কূপ রয়েছে বেশি।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচই) রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকি বহন করছে। কারণ যেখানে নিরাপদ পানি সংগ্রহের ক্ষেত্র রয়েছে, সেখান থেকে যদি  কেউ পানি পান না করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা আর্সেনিকের ঝুঁকিতে থেকেই যায়।

ডিপিএইচইর এই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশে প্রায় এক কোটি নলকূপ আছে। এর মধ্যে ১৪ লাখ সরকারি। যেগুলোর পানি ল্যাবরেটরির মাধ্যমে পরীক্ষিত এবং নিরাপদ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্থাপন করা নলকূপগুলো পরীক্ষা করা না হলে সেগুলোকে নিরাপদ বলা যাবে না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ নলকূপের পানি স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে পরীক্ষা করা। এর জন্য সরকারি ফি নির্ধারণ করা আছে সাড়ে চারশ টাকা করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের পৃথক কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পে বরাদ্দ থাকা বাজেটেই আর্সেনিক মুক্তকরণের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।   

গত বছরের ৬ এপ্রিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ দেশের আর্সেনিকের পরিস্থিতি নিয়ে ১২০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে, দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি খাচ্ছে অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১২.৫ শতাংশ। আর আর্সেনিক মুক্তকরণ কর্মসূচিতে ২০ বছর পরও সফল হতে পারেনি সরকার। আর্সেনিক সংশ্লিষ্টতায় বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রগতির পথে শিরোনামে একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। সেখানেও বলা হয়, ১২.৪ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে আছে। শহরে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে ৬.৮ শতাংশ এবং গ্রামে ১৪.০ শতাংশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow