Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৭
৯ মাস ধরে বিচারক নেই বিচার পেতে ভোগান্তি
রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর

২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ এলাকায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তার বাবা আলেফ উদ্দিন পরের দিন মিঠাপুকুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

এখন পর্যন্ত মামলাটির শুনানিই শুরু হয়নি। তৃতীয় দফায় শুনানির দিন ছিল গতকাল। বিচারক না থাকায় কাগজে-কলমে হাজিরা দিয়ে চলে যান তিনি।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট থেকে হাজিরা দিতে এসেছেন যৌতুক মামলার আসামি মহিবুল আলম। তিনি রংপুর শহরে বিয়ে করেছিলেন। তিনি জানান, আজ (রবিবার) শুনানির দিন থাকায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে জানতে পারি বিচারক নেই। হাজিরা দিয়ে ফিরে যাচ্ছি। এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রার্থীরা। ৯ মাস ধরে এ ট্রাইব্যুনালে বিচারক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচার প্রার্থীরা। কবে নাগাদ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে সে ব্যাপারেও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না এ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

জানতে চাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার রফিক হাছনাইন বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন ৬ হাজার মামলার বিচারকাজও বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিচার প্রার্থীরা। বিচারক চেয়ে একাধিকবার আইন মন্ত্রণালয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৬ হাজার। ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে জি মোস্তফা গত বছরের ৮ জুন অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর এখানে বিচারকশূন্যতার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ নিজ দায়িত্বে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে নিজের আদালতের মামলার আপিল ও শুনানির পর তার পক্ষে অন্য আদালতের মামলা নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, বিচার প্রার্থীরা আসছেন আর হাজিরা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। জেলা ও দায়রা জজ নিজের আদালতের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন। এরপরও তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের শুধু জামিন শুনানি করছেন।  

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রংপুর শাখার আহ্বায়ক আইনজীবী এম এ বাশার টিপু বলেন, বিচারক না থাকায় এ ট্রাইব্যুনালে বিচার ব্যবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow