Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১০
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের মরণফাঁদে শিক্ষার্থীরা
মর্তুজা নুর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) অভ্যন্তরে চারটি রেলক্রসিংয়ের তিনটিই অরক্ষিত। নেই কোনো গেটম্যান ও ব্যারিকেড।

অপর ক্রসিংটিতে নাম মাত্র ব্যারিকেড রয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও কৃষি অনুষদের প্রবেশদ্বার, স্টেশন বাজার, বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্তান এলাকায় মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা বাজারের রাস্তায় ও বধ্যভূমি থেকে বের হয়ে বুধপাড়া যাওয়ার রাস্তায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য রয়েছে চারটি ক্রসিং। এসব ক্রসিংয়ের আশপাশে রয়েছে উঁচু দেয়াল ও গাছপালা। কতদূরে ট্রেন রয়েছে তা অনুমান করা যায় না। ট্রেন আড়াল হয়ে থাকা ও ক্রসিংগুলো অরক্ষিত থাকার কারণে তা পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাজা প্রাণ। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে তিন ছাত্রীসহ পাঁচ শিক্ষার্থীর প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৮ আগস্ট চারুকলা রেলক্রসিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সান্ত্বনা বশাক নামের এক ছাত্রী ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। একই গেটে ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান ফলিত গণিত বিভাগের ছাত্রী ইসরাত আরেফিন।

একই বছরের ১৩ মে মেহেরচণ্ডী এলাকার ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে মারা যায় সোহেল রানা নামে স্থানীয় এক যুবক। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের পাশে শামীমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। এ ছাড়া ২০১০ সালের ২৪ জানুয়ারি বধ্যভূমি এলাকার ক্রসিংয়ে শামসাদ পারভীন আনু নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্তান সংলগ্ন ক্রসিংয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী গামী ধুমকেতু এক্সপ্রেসের ধাক্কায় রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গুরুতর আহত হন গাড়ির চালক আজহারুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব ক্রসিংয়ে যেমন অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে, তেমনি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তারা।

up-arrow