Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০২
রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৮ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, গত আট বছরে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৮ হাজার ৬৪২.২১ মিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছরের রপ্তানি আয় ১৬ হাজার ২০৪.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪ হাজার ৮৪৬.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে গতকালের বৈঠকে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাহান আরা বেগম সুরমার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১৬ হাজার ২০৪.৬৫, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২২ হাজার ৯২৮.২২, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৩০১.৯০, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৭ হাজার ০২৭.৩৬, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩০ হাজার ১৮৬.৬২, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩১ হাজার ২০৮.৯৪ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ২৫৭.১৮ মার্কিন ডলার।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো মাল্টি লেভেল কোম্পানি দেশে নেই : মো. নজরুল ইসলামের (নারায়ণগঞ্জ-২) তারকাচিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশে লাইসেন্সপপ্রপ্ত কোনো মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি নেই। আইন ভঙ্গ করে অবৈধভাবে কেউ এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এমএলএম ব্যবসার নামে জনগণকে কেউ যাতে প্রতারিত করতে না পারে সে লক্ষ্যে সরকার মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৪ ও সংশোধিত বিধিমালা, ২০১৪ প্রণয়ন করেছে। আইন অমান্য করে কেউ এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদানের বিধান রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এমএক্সএন মডার্ন হারবাল ফুড লি., রিচ বিজনেস সিস্টেম লি., স্বাধীন অনলাইন পাবলিক লি., ওয়ার্ল্ড মিশন-২১ লি. ও জার ইলেকট্রনিক পালস লি. নামের পাঁচটি এলএমএম কোম্পানিকে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। পরে তদন্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি।

চা রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে : বজলুল হক হারুনের (ঝালকাঠি-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে ৭৮.৯৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চা উপৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ ও ২০১৭ সালে চা রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ২.৫৬ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে। ২০১৬ সালে রপ্তানি হয়েছিল ০.৬২ মিলিয়ন কেজি ও ২০১৫ সালে ০.৫৫ মিলিয়ন কেজি।

চিনির চাহিদা ১৫ লাখ মেট্রিক টন : এম এ মালেকের (ঢাকা-২০) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির চাহিদা মূলত আমদানিকৃত চিনি থেকে মেটানো হয়। ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া থেকে চিনি আমদানি করা হয়। দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে গত অর্থবছর চিনি উৎপাদন হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৮৪ মেট্রিক টন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow