Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩০
হজ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
ইসলামের অবমাননা করার অধিকার কারও নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামের অবমাননা করার অধিকার কারও নেই
bd-pratidin

ধর্ম নিয়ে কেউ যেন রাজনীতি না করে বা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলামের অবমাননা করার অধিকার কারও নেই। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য আলেম-ওলামাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদ ও মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

গতকাল রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজারসহ মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করবেন। আগামী ১৪ জুলাই প্রথম ফ্লাইট এবং তা চলবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২৫ সেপ্টেম্বর। ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তিতে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্মেই মানুষের অধিকারের কথা, মানুষের জীবন মান উন্নয়নের কথা বারবার বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার হাজীদের সুষ্ঠুভাবে পবিত্র হজ পালন করার সুযোগ করে দিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হজ ব্যবস্থাপনায় ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা হজ পালনে পবিত্র ভূমিতে যাচ্ছেন, দোয়া করবেন যেন আপনাদের খেদমত করার সুযোগ পাই। আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহর মেহমান হয়ে, পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে আপনারা যাবেন নবী করিম (সা.)-এর পবিত্র রওজা পাক জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালোভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। হজযাত্রীদের কাছে দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া কামনার পাশাপাশি ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের শাহাদাতবরণকারীদের জন্য দোয়া কামনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আপনারা তাদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি— আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই এই দেশের মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে— সেটাই আমার লক্ষ্য। গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কী পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে। জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ করেন। ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কোরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটলাইট মহাকাশে উেক্ষপণের ফলে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের দোরগোঁড়ায় ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকারই প্রথম সরকারি পর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করেছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

 কোরআনের শিক্ষা প্রচারের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২ হাজার ২৭২ কোটি ৪ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সারা দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার নির্মাণে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে ৮০ শতাংশ জায়গাও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এসব মসজিদ নির্মিত হলে সেখানে নামাজ ছাড়াও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম, হেফজখানা, গবেষণা কক্ষ, লাইব্রেরি, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও লাশ গোসলের ব্যবস্থা থাকবে।

ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এ এইচ এম আল-মুতাইরি, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি আলহাজ আবদুস সোবহান ভূঁইয়া ও মহাসচিব শাহাদাত হুসাইন তসলিম প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow