Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:০৪
শিক্ষক নিয়োগের কয়েক লাখ টাকা অধ্যক্ষের পকেটে!
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
bd-pratidin

রাজশাহীর গোদাগাড়ী কলেজ। সম্প্রতি সরকার উপজেলার এই কলেজটি জাতীয়করণ ঘোষণা করেছে। জাতীয়করণের ফলে সরকারকে প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। কলেজ পরিচালনা কমিটি অধ্যক্ষের কাছে সেই হিসাব চেয়েছে। আর তাতেই হিসাব মিলাতে গলদঘর্ম অধ্যক্ষ। এ পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ করে তিনি যে টাকা নিয়েছেন তার কোনো হিসাব নেই কলেজের ব্যাংক হিসাবে। সব টাকাই আছে অধ্যক্ষের পকেটে!

তবে অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের দাবি, তিনি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনো টাকা নেননি। অনুদান হিসেবে যে টাকা নিয়েছেন, তা যথাযথভাবে কলেজের উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে। তাকে ফাঁসাতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে না পারায় অধ্যক্ষের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের। আর তারাই ফাঁস করেছেন এ পর্যন্ত অধ্যক্ষের করা নানা অনিয়মের। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, দুই দফায় শিক্ষক নিয়োগ করেছেন অধ্যক্ষ আবদুর রহমান। ২২ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন প্রত্যেকের কাছ থেকে। এসব টাকার কোনো হিসাব নেই কলেজের ফান্ডে। এ ছাড়া উপবৃত্তি পাওয়া ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নেওয়ার কোনো নিয়ম না থাকলেও অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে বেতন নিয়েছেন মাসে মাসে।     

শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজে কোনো বেঞ্চ না বানিয়ে তিনি ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে দুই লাখ ৪৬৫ টাকা তুলে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পোশাক দেওয়ার নামে টাকা নেন অধ্যক্ষ। অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তির সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৬৬ হাজার, ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে এক লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অনার্স শ্রেণির দুটি হিসাব থেকে তিনি বিভিন্ন বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় চার লাখ তুলে নিয়েছেন। মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তারেক আজিজের প্রতি মাসের বেতনের ১০ হাজার টাকা নিজে উত্তোলন করে ১০ মাসের বেতন এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অধ্যক্ষকে কলেজ পরিচালনা কমিটি কারণ দর্শানোর নোটিস দিলে অধ্যক্ষ তড়িঘড়ি করে গত ১৪ আগস্ট তারেক আজিজের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। সংবাদ সম্মেলনে কলেজের উপাধ্যক্ষ উমরুল হক ছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow