Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৭
আওয়ামী লীগের ‘সমর্থন’ ৬৪ শতাংশ, শেখ হাসিনার ৬৬
আরআইআর জরিপ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। ওই জরিপ অনুযায়ী দেশের ৬৬ শতাংশ ভোটারই শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেশি বলেও তথ্য মিলেছে এতে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তার দলের চেয়ে দুই শতাংশ বেশি। জরিপের এই ফলাফল সঠিক হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে বেগ পেতে হবে না।  জরিপে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ শতাংশ নাগরিক। গত ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ শতাংশ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ শতাংশ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ মনে করছে, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। জরিপের ফলাফলে বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টি বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ৬৪ শতাংশ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শতকরা ৬১ ভাগ নাগরিক।

দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ৫১ শতাংশ।

পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোট অধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ শতাংশ জানায়, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবে, যার মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহের পক্ষে মত প্রদান করে।

চলতি বছরের এপ্রিলের ১০ তারিখ থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান চালানো হয়। সেখানে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রবাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেওয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইন্সস্টিটিউট (আইআরআই)-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শতকরা ৬৪ ভাগ নাগরিক মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ আয়োজনে পরিসংখ্যানেও একই কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৫ শতাংশ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দেশের সবচেতে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে  শতকরা ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করে। এ প্রতিবেদনেই ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করে। ২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অপর এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ টানা প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতায়। আর এই দুই মেয়াদে দেশে আর্থ-সামাজিক ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করছে সরকার। এ সময়ে দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মাথাপিছু আয় ও বাজেটের আকার বৃদ্ধি, নানা মেগা প্রকল্প গ্রহণ, গড় আয়ু বাড়াসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে নানা অগ্রগতির প্রশংসা এসেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow