Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:০৮
ম্যানহোলে নারীর গলিত লাশ
সন্দেহে দ্বিতীয় স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্দেহে দ্বিতীয় স্বামী

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ম্যানহোল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত লাশটি পারভীন আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা। তাকে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দ্বিতীয় স্বামী ছাড়াও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, পারভীনের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ রামগোপালপুর।

যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কাউন্সিল এলাকায় তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন। আর বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। ১০ বছর আগে প্রথম স্বামী মুকুল হোসেনের সঙ্গে তার তালাক হয়ে যায়। বছরখানেক আগে সাগর (৩০) নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের পর বিয়ে হয়। সাগর গুলিস্তানের বিভিন্ন দোকানে ফিল্টারের পানি সরবরাহ করেন বলে জানা যায়। গত ২৯ আগস্ট বিকালে কাপড় বিক্রি করার কথা বলে বাসা থেকে বের হন পারভীন। ওইদিন সন্ধ্যায় শেষবারের মতো ছেলে পারভেজের সঙ্গে কথা হয় তার। অনেক রাতেও বাসায় না ফেরায় রাত ১২টার দিকে তার মোবাইল ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী-খিলগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় তার সন্ধানে যোগাযোগ শুরু করেন স্বজনরা। পরে তারা খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

রাজধানীতে স্বামীর মারধরে স্ত্রী নিহত : রাজধানীর শাহাআলী এলাকায় স্বামীর মারধরে স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩২) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে সেকশন-১, ব্লক-ডি, রোড-৪-এর ১৪ নম্বর টিনশেট বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়েছে। জানা গেছে, শাহিনার বাড়ি মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কাউনদিয়ায় এবং নিরবের বাড়ি ভোলায়। ওই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। নিহতের পরিবার বলছে, যৌতুকের জন্য শাহিনার স্বামী নিরব প্রায়ই তাকে মারধর করত। যৌতুকের টাকা না পেয়ে নিরব এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ বলছে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী নিরব শাহিনাকে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাবু মিয়া নিরবের নামে মামলা করেছেন।

শাহআলী থানার এসআই খন্দকার মনিরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে শাহিনা ও নিরবের মাঝে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে নিরব স্ত্রী শাহিনাকে মারধর করে এবং গলায় তার দিয়ে পেঁচিয়ে ধরলে শাহিনা মারা যায়। ঘটনার পর থেকেই কবুতর ব্যবসায়ী নিরব পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে গুলশানের শাহজাদপুরে একটি পিকআপের ধাক্কায় সোলেমা খাতুনের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পিকআপসহ এর চালক লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া।

সোলেমা খাতুনের নাতি নাঈম জানান, তার নানীর ছোট মেয়ে হেলেনার সন্তান হেলালকে নিয়ে স্থানীয় স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে শাহজাদপুর সুবাস্তু টাওয়ার সংলগ্ন সড়ক পার হওয়ার সময় একটি পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে নানী গুরুতর আহত হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নানীর বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়। বর্তমানে শাহজাদপুর খিলবাড়ীরটেক এলাকায় মেয়ে হেলেনার বাসায় থাকতেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। ওই ক্লু ধরে তদন্ত চলছে। তার দ্বিতীয় স্বামী ছাড়া আরও কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ানের নবীনবাগ এলাকার ৪০৯/৩ নম্বর বাসার পাশে একটি ম্যানহোল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, দু-তিন দিন আগে কেউ তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ম্যানহোলে ফেলে যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow