Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৯
নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় জেএমবি!
নারী কমান্ডারসহ গ্রেফতার ১৬
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর
bd-pratidin

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঘাপটি মেরে থাকা সদস্যরা রংপুর বিভাগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিস্তা নদীর দুর্গম চর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় গোপন ঘাঁটি গেড়ে জেএমবি সদস্যরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র‌্যাব-পুলিশ কয়েকদিনে রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর থেকে জেএমবির নারী কমান্ডারসহ ১৬ জনকে গ্রেফতারের পর তাদের সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও জিহাদি বই। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি উদ্বেগের হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণ সতর্ক থাকলে জঙ্গিরা অপকর্ম করতে পারবে না। জানতে চাইলে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নাশকতাসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জেএমবি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। রংপুর বিভাগে জেএমবিকে শক্তিশালী করতে ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় নেওয়ার কাজ করা হচ্ছে। পুলিশ বাহিনী সতর্ক থাকায় জঙ্গিরা সফল হতে পারবে না। র‌্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, জেএমবির সদস্যরাই নব্য জেএমবি নামে সক্রিয় হচ্ছে। তবে কিছু করার আগেই আমরা তাদের ধরে ফেলেছি। জানা গেছে, ২০০৭ সালে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ শীর্ষ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো রংপুরেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে জেএমবি। রংপুর বিভাগে জেএমবির শতাধিক সদস্য আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধের সময় এ অঞ্চলে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে জেএমবি। এ সময় জঙ্গিরা রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও, মাজারের খাদেম রহমত আলী, পঞ্চগড়ের মঠ অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়, কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী, গাইবান্ধার চিকিৎসক দীপ্তি ও ব্যবসায়ী তরুণ দত্তকে হত্যা করে। এ ছাড়া রংপুরের বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমীন, নীলফামারীর সৈয়দপুরের ইমামবাড়ার খাদেম ও দিনাজপুরে এক চিকিৎসককে কুপিয়ে এবং গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করে জঙ্গিরা।

জেএমবি দমনে কঠোর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় রংপুর বিভাগের জেএমবির ৪ শীর্ষ নেতা নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে বাইক হাসান, সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল, রায়হান কবীর ওরফে তারেক এবং আবদুল্লাহ ঢাকা ও রাজশাহীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নজরুল খাদেম হত্যা ও সাদ্দাম হোশি কোনিও হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ছিলেন। এ ছাড়া জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রীসহ ৭ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এরপর থেকে আবারও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে জেএমবির তৎপরতা।  কিন্তু গত মাস থেকে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে জেএমবি। গত ১ আগস্ট রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার দুর্গম চরে অভিযান চালিয়ে জেলা ও উপজেলা দাওয়াহ বিভাগের প্রধান ও ইছাবা (সামরিক) সদস্যসহ ৫ জেএমবি নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে আকরামুজ্জামান ওরফে মুকুল মাস্টার ২০১১ সালে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ফের জেএমবিতে যোগ দিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা দাওয়াহ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একে-টুটু রাইফেল, ১৫ রাউন্ড গুলি, দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি বার্মিজ চাকু ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।  

এ ছাড়া ২ থেকে ৮ আগস্ট লালমনিরহাট থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় ১০ রাউন্ড গুলিসহ চারটি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ দুটি শুটারগান। এর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লবের সহযোগী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জেএমবির নারী কমান্ডার সাদিয়া আফরোজ নীনাকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩ আগস্ট রাতে পুলিশ কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার তিস্তার দুর্গম চরে অভিযান চালিয়ে জেএমবির ৩ ইছাবা (সামরিক) সদস্যকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল, এক কেজি বিস্ফোরক পাউডার ও আধা লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জেএমবির রংপুর বিভাগের সামরিক (ইছাবা) শাখার প্রধান শহিদুল্লাহ ওরফে মাসুম ওরফে গোপাল ওরফে ইয়ামিন ওরফে নাদিদকে (৪৬) বুধবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

 অপরাধ বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, নির্বাচনের আগে জেএমবি তৎপরতা নিশ্চয়ই উদ্বেগের বিষয়। আদতে মৌলবাদী মতাদর্শ হলো জঙ্গিবাদের মূল। জঙ্গি সংগঠনের পেছনে রাজনীতি আছে, অর্থনীতি আছে। এ পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। বহুমুখী জঙ্গিবিরোধী কৌশল যদি কার্যকর করা যায় তাহলে নতুন করে জেএমবি মাথাচাড়া দিতে পারবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow