Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫১
রহস্য কাটছে না ২৩ লাখ টাকা লুটের
মাহবুব মমতাজী
রহস্য কাটছে না ২৩ লাখ টাকা লুটের
bd-pratidin

রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি রাজধানীর প্রিমিয়ার ব্যাংকে ফিল্মি স্টাইলে ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনার। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেও সেই দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর ব্যাংক কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন একজনকে চিহ্নিত করে দিলেও পরে ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পায়নি তদন্ত কর্মকর্তারা।

গত ২০ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বাড্ডার লিংক রোডে প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি শাখায় ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় এক দুর্বৃত্ত ব্যাংকের সব কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৯ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। লুটের পর ওই ব্যক্তি ব্যাংকে থাকা সিসিটিভির ডিভিআরও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির ওই শাখায় সর্বশেষ হিসাব নম্বর খুলেছেন এমন কয়েকজনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে একজনের ছবিসহ তথ্য ব্যাংকের অন্তত ৫ জন কর্মকর্তাকে দেখানো হলে তারা ৯০ ভাগ নিশ্চিত করে যে ওই ব্যক্তিই সেই, যে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং জানান, ওইদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি বিমানবন্দর থানায় পারিবারিক একটি মামলায় আটক ছিলেন। যাচাই করে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা খুঁজে পেলে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে জানা যায়, আটক ওই ব্যক্তি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় জড়িত। কিন্তু এখনো পুরো ঘটনাটিকে রহস্যজনক মনে করছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, একটি ব্যাংকের সিসিটিভি সেন্ট্রাললি মনিটরিং করার পরও তারা ব্যাংকের ভিতর এবং বাইরের কোনো ফুটেজ পুলিশকে সরবরাহ করতে পারেনি। আর অভিযোগ করা হচ্ছে, একজন ব্যক্তিই সবাইকে জিম্মি করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনার সব হিসাব মিলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও সন্দেহের বাইরে নেই বলে জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে মামলার বাদী ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার রাহাত আলম এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা এখনো তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।

 বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে, তারাই ভালো বলতে পারবে।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বেলা পৌনে ৪টার দিকে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফজলুল হকের কক্ষে সরাসরি ঢুকে পড়ে। এ সময় তার মুখে ক্লিনিক্যাল মাস্ক ও কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো ছিল। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী লোকটি একটি কাগজ দেখাবেন বলে ব্যাগ থেকে একটি পিস্তল ও ছুরি বের করে শাখা ব্যবস্থাপককে জিম্মি করে ফেলে। বাইরে তার আরও লোক অবস্থান করছে জানিয়ে বলে কোনোরূপ সাড়া-শব্দ করলে শাখা ব্যবস্থাপককে মেরে ফেলবেন। যারা লেনদেন করতে এসেছিলেন তাদেরকে বের করে দিয়ে ব্যাংকের সব কর্মকর্তাকে এক জায়গায় জড়ো হতে বলেন। পরে সবাইকে ব্যাংকের লকার রুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে লকার রুম থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তারা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানান। পরে খবর পেয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর শাখা ব্যবস্থাপক ক্যাশ পরীক্ষা করে টাকা লুটের বিষয়টি নিশ্চিত হন। যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি সিসি ক্যামেরার রেকর্ডিংয়ের ডিভিআরটিও খুলে নিয়ে যায় বলে জানান। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আশরাফুল করিম জানান, আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow