Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৫
তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলেও শাস্তি হয় না
ট্রাফিক বিভাগের হালচাল (শেষ)
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলেও শাস্তি হয় না

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে নামে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এ তদন্ত করতে গিয়ে কয়েকজন ট্রাফিক সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়টি তদন্ত করে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। কিন্তু এ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।  এটি একটি খণ্ড চিত্র। চট্টগ্রাম নগর ট্রাফিক বিভাগে এ ধরনের আরও বহু নজির রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশিদ হাজারি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটি গঠন হওয়ার পরই শুরু হয় ‘বাণিজ্য’। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ‘পক্ষে’ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন লাখ টাকা। অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করতে পারেন না অভিযুক্তরা। তারা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর তা বিপক্ষে গেলে সংশ্লিষ্ট দফতরে ধামাচাপা দিতে খরচ করেন লাখ টাকা। এক্ষেত্রে কোনো কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত ধামাচাপা দিতে নেওয়া হয় ৫০ হাজার  টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। হাবিলদার, সার্জেন্ট কিংবা উপরের কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয় লাখ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, ‘কোনো ট্রাফিক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে টিআই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। যারা টাকা জমা দেন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা থাকে। যারা টাকা দেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

একটি ঘটনায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে মোটরযান আইনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত করতে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে তিনি ঘটনার সত্যতা পান। অভিযুক্তকে ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু সার্জেন্ট আনোয়ারুল হকের শাস্তি হয়নি। বরং পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন ট্রাফিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow