Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৮

রেজিস্ট্রারের কাণ্ড

ছাত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে শ্লীলতাহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

ছাত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে শ্লীলতাহানি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে তাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশালের একটি সরকারি কলেজের স্নাতক সম্মান তৃতীয় বর্ষের পিতৃহীন ছাত্রী অধ্যয়নের পাশাপাশি একটি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানির বিভিন্ন প্যাকেজ প্রকল্পে পার্টটাইম চাকরি করছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন সরকারি দফতরে চাকরির আবেদন করতে থাকেন। এর আগে দুবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদন করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তার চাকরি হয়নি। এরপর তৃতীয় দফায় গত মে মাসে আবারও তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদন করেন। কিন্তু এবারও তার চাকরি হয়নি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম দিকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ছাত্রীর সঙ্গে তার সালাম ও কুশল বিনিময় হতো মাত্র। পরে রেজিস্ট্রার ছাত্রীর নম্বর নিয়ে মুঠোফোনে কল দিতে থাকেন। এভাবে তিনি ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয় জানেন।

ওই ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুল গত রমজানের প্রথম দিক থেকে রাতে ছাত্রীকে ভিডিও কল করা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রীকে তার রূপাতলী হাউজিংয়ের বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ছাত্রী এ ধরনের আমন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও রেজিস্ট্রার মনিরুল নাছোরবান্দার মতো লেগে থাকেন এবং নানা রকম অশ্লীল আচরণ করতে থাকেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন সময় ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন। তিনি জানান, তার প্রস্তাবে সাড়া দিলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ছাত্রীটি এ রকম পরিস্থিতিতে বিষয়টি স্বজনদের জানান এবং গত বৃহস্পতিবার তিনি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যের কাছে যান।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন সময় রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ ওঠে, কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি নারী নেত্রী অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত বছর রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আরও এক নারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য কঠোর ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তিনি সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের দায়ে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই দাবি করেন বরিশাল জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর