Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:০৮
চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ঈগল রেল
বন্দর হবে আরও আধুনিক ও গতিশীল
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ঈগল রেল

দেশের অর্থনীতির হৃত্স্পন্দনখ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর ২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক বন্দরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিতি পায়। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে গত নয় বছরে ২৮ ধাপ উন্নীত হয়। বিশ্বের ১০০টি প্রধান বন্দরের তালিকায় এ বন্দরের স্থান এখন ৭০তম। সক্ষমতার এই প্রবৃদ্ধিকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ‘ঈগলরেল কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে কনটেইনার মুভমেন্টের পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। আমেরিকান কোম্পানি ‘ঈগলরেল’-এর কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে দুই দফা চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করে গেছেন। তারা ঈগলরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে ‘ঈগলরেল’ ব্যবহার যাচাই করতে আমেরিকার আরও একটি শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাাম আসবে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে ঈগলরেল চালুর পদক্ষেপ নেবে। অনেকটা কেবল কারের মতো ঈগলরেল অন্তত ৫০ ফুট ওপরে স্টিল স্ট্রাকচারের ট্র্যাকে কনটেইনার স্থানান্তর করে থাকে। সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বে টার্মিনাল পর্যন্ত ঈগলরেলের দুটি ট্র্যাক স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। এ দুটি ট্র্যাক দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার বে টার্মিনালের ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। ওখান থেকে কনটেইনার সরবরাহ দেওয়া হবে। বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ টিইইউএস কনটেইনার মুভমেন্ট করা যায়। ঈগলরেলে ঘণ্টায় কমপক্ষে ৩০০ টিইইউএস কনটেইনার মুভমেন্ট করা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম বলেন, ‘এটি খুবই ভালো একটি প্রকল্প। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু প্রস্তুত তা ভেবে দেখা হবে। বে টার্মিনাল নির্মাণ হলে অবশ্যই ঈগলরেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিল্পনা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার গ্রহণ করেছে ৩০ বছরব্যাপী মহাপরিকল্পনা, যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে।’ চবক সূত্র জানায়, বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বার্ষিক ১২ থেকে ১৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৪ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় ১৭ লাখ টিইইউএস, ২০১৫ সালে ২০ লাখ, ২০১৬ সালে ২৩ লাখ এবং ২০১৭ সালে তা ২৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০১৮ সালে ৩০ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় বন্দরের সর্বস্তরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, সংস্কার করা হয়েছে পুরনো বন্দর আইন। সূচনা হয়েছে বন্দর অটোমেশন কার্যক্রম।

 চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, লালদিয়া টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্বয়ংক্রিয় কনটেইনার অপারেশন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সিটিএমএস এবং জাহাজ যাতায়াত ও বহির্নোঙরে অবস্থানকালে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আধুনিক ভিটিএমআইএস চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে এ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow