Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:০৯
সিলেট সীমান্ত দিয়ে আসছে বিস্ফোরক
টার্গেট নির্বাচন সামনে রেখে ভয়াবহ নাশকতা
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
সিলেট সীমান্ত দিয়ে আসছে বিস্ফোরক

সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে আসছে শক্তিশালী বিস্ফোরকের চালান। ভারতের মেঘালয় ও আসামের বিভিন্ন কয়লা ও চুনাপাথর খনিতে ব্যবহূত বিস্ফোরকগুলো চোরাকারবারিদের মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। হাত বদল হয়ে সেগুলো চলে যাচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গ্রুপের কাছে। সিলেট থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের ব্যবহূত বিস্ফোরকেরও মিল রয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে সম্প্রতি বিস্ফোরকের কয়েকটি চালান আটকের পর র‌্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব বিস্ফোরক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহারের উদ্দেশে ভারত থেকে অবৈধ পথে বিস্ফোরকের চালান আনছে এমন আশঙ্কাও করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শনিবার রাতে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার কোনাগ্রাম বাবুরখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের একটি চালান আটক করে র‌্যাব। আটক করা হয় বিস্ফোরক বহনকারী এক যুবককে। আবদুল মন্নান নামের ওই যুবক একই উপজেলার বারোঠাকুরী ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামের মৃত জোবেদ আলীর ছেলে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ পিস হাই এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার জেল ও তারসহ ১০০ পিস ডেটোনেটর। এর আগে কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে আসা বিস্ফোরকের কয়েকটি চালান উদ্ধার করেছিল র‌্যাব। র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু হায়দার মো. আজাদ আহমদ জানান, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো খুবই শক্তিশালী। এরকম ১০টি পাওয়ার জেল দিয়ে ২-৩ তলা ভবন অনায়াসে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। বিস্ফোরকগুলোর উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত এরকম বিস্ফোরক সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় ও আসামের বিভিন্ন কয়লা খনিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক সেসব খনিতে কাজ করেন। তারা দেশে ফেরার সময় এই বিস্ফোরকগুলো নিয়ে আসেন। ভারতে প্রতি পিস পাওয়ার জেলের দাম এক শত টাকার চেয়ে কম হলেও বাংলাদেশে এনে এগুলো ৯০০-১০০০ টাকায় শ্রমিকরা বিক্রি করেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় ঝুঁকি সত্ত্বেও শ্রমিকরা এসব বিস্ফোরক দেশে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন সময় আটককৃতরা তথ্য দিয়েছেন বলে জানান ওই র‌্যাব কর্মকর্তা। শ্রমিক ছাড়াও চোরাকারবারিরাও ভারত থেকে এসব বিস্ফোরক নিয়ে আসে বলে জানান তিনি।

এর আগে সিলেটে বিস্ফোরকের যতটি চালান ধরা পড়েছিল সেগুলোর প্রায় সবকটিই কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু গত শনিবার রাতে ধরা পড়া চালানটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে। তাই নতুন এ রুট নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এ প্রসঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল আবু হায়দার বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিস্ফোরক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা ক্রেতাদের শনাক্তের চেষ্টা করছি। র‌্যাব-৯ অধিনায়ক বলেন, ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা এসব বিস্ফোরক সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে যাচ্ছে। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো নাশকতা সৃষ্টির জন্য এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করতে পারে। বিস্ফোরক চোরাচালানের পুরো চ্যানেলটি ভেঙে দিতে আমরা সাপ্লাই চেইন শনাক্তের চেষ্টা করছি। এজন্য নতুন রুট জকিগঞ্জ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রমও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow