Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৮
বদলে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা
গুরুত্ব পাচ্ছে পঠন ও লিখন
নিজামুল হক বিপুল
বদলে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষার চেহারা পাল্টে দিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে গুণগতমান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের শেষ দিকে উদ্যোগটি নেওয়া হলেও নতুন বছরের শুরু থেকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠে নামছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এজন্য এরই মধ্যে উপবৃত্তির শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া। শিক্ষকদের কম্পিউটারে বিশেষ প্রশিক্ষণসহ তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি। আর বিদ্যালয়বহির্ভূত প্রায় দেড় লাখ শিশুকে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ই-প্রাইমারি স্কুল সিস্টেম ও ই-মনিটরিং কার্যক্রম। সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সবার জন্য একীভূত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তিনি এ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বেশকিছু বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও গতিশীল করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জোর দিয়েছেন মনিটরিং, শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখনের ওপর। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের নয়টি নির্দেশনা দিয়ে গত অক্টোবরে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এখন শিক্ষার মেরুদ- শক্ত ও মজবুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন আর আগের মতো শিক্ষক সংকটও নেই। শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু শিক্ষক নিয়োগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে না সরকার, এর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, এমনকি তাদের দেশের বাইরেও পাঠাচ্ছে। সূত্র জানান, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখনের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে একটি প্যারা/পৃষ্ঠা পঠনের (রিডিং) জন্য বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) দেওয়া, প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা হাতের লেখা বাড়ি থেকে লিখে আনার জন্য বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) দেওয়া, প্রথম ক্লাসেই সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষক কর্তৃক বাধ্যতামূলক শিক্ষার্থীদের পঠন (রিডিং) করানো, শিক্ষকদের শিশুদের সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণে পাঠদান করানো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চারণ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া, বুক কর্নার ও এসআরএমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রতিদিন ক্লাসে শিশু শিক্ষার্থীদের একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি শব্দ পড়ানো, বলা ও লেখা শেখানো, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষার ভান্ডার বৃদ্ধি এবং শিশুরা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে ও শিখতে পারবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, শেখ হাসিনার সরকারের এই ১০ বছরে সারা দেশে ১০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর আওতায় সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৭ হাজার ৪৬৬টি শিক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যালয়বহির্ভূত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬২ শিশুকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করায় বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিশু প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমিয়ে আনতে সরকার সারা দেশে ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উপবৃত্তি দিচ্ছে। এ কাজে যাতে কোনোরকম অনিয়ম না হয় সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মায়ের কাছে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ অঙ্কে নামিয়ে আনতে চাই। ২০১৭ সালের তথ্যানুযায়ী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, সারা দেশে ৬৫ হাজার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। সচিব বলেন, সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র আমূল বদলে দিতে তার মন্ত্রণালয় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow