Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুন, ২০১৬ ০০:১২
জামালপুরে কলেজমাঠে হাট শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে কলেজমাঠে হাট শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বাউসী বাঙ্গালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বসেছে হাট

মাঠ দখল করে হাট বসায় ব্যাহত হচ্ছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার বাউসী বাঙ্গালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। দখলদারদের হাত থেকে স্কুলমাঠ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় উল্টো প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়া করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম জানান, ইজারাদার বাবু তালুকদারের নেতৃত্বে গত ২ মে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্রসহ একদল লোক তার অফিস কক্ষে চড়াও হয়ে জোরপূর্বক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদী হয়ে বাবু তালুকদারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছেন। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, এরপর থেকে ইজারাদারের প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি আর কলেজে যেতে পারছেন না।

ইজারাদার বাবু তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাটটি দীর্ঘদিন থেকেই বসছে-এটা নতুন কিছু নয়। তবে তিনি অধ্যক্ষকে হুমকির বিষয় অস্বীকার করেন। জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাউসি বাঙ্গালী হাইস্কুল। ২০১২ সালে স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত করা হয়। এই স্কুলের ক্যাম্পাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০। এই প্রতিষ্ঠানটির বাউন্ডারি দেয়ালের ভিতর রবি ও  বুধবার হাট বসে। এই দুই দিন সকাল-সন্ধ্যা হাটুরে মানুষের তুমুল কোলাহলে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। হাটের ভিড়ে গ্রামের ছাত্রীরা এ দুই দিন স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। ভোগান্তির মধ্যে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হাটের ইজারাদার বাবু তালুকদারকে হাট স্থানান্তরের নোটিস দেন। কিন্তু বাবু নোটিস গ্রহণ না করলে অধ্যক্ষ বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানান। মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গত ২৫ এপ্রিল অবিলম্বে স্কুলের মাঠ থেকে হাট সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামালপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ জারির খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হাটের ইজারাদার ও তার প্রভাবশালী সহযোগীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow